এ যেন অন্য ছবি, করোনার চিকিৎসক পেলেন সম্বর্ধনা

303

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: টানা সাত দিন আসানসোলের সেনরেল রোডে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনার চিকিৎসা করছিলেন। বুধবার সেই হাসপাতাল থেকে নিজের বাড়িতে ফিরলেন সরকারি চিকিৎসক তথা আসানসোলের রুপনারায়নপুরের বাসিন্দা অমরেশ মাঝি। বাড়ির সামনে মানুষের ভিড়। তাদের হাতে ফুলের মালা, শাঁখ, মিষ্টি দেখে রীতিমতো চমকে ওঠেন তিনি। এরপর গাড়ি থেকে নামতেই কেউ ফুলের স্তবক আবার কেউ চকোলেট দেন। বেজে ওঠে প্রতিবেশী মহিলাদের শাঁখ। যা দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরমুহুর্তে তিনি বুঝতে পারেন, এইসব তারজন্যই করা হচ্ছে। বুঝতে পেরে চিকিৎসকের চোখে জল এসে যায়।

অথচ, কিছুদিন আগেই দেখা গিয়েছে উল্টো ছবি। বাংলা সহ বিভিন্ন রাজ্যের কোথাও না কোথাও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনার চিকিৎসা করে বাড়ি ফেরার পর প্রতিবেশীরা এলাকায় ঢুকতেই দেয়নি। কোথাওবা বাড়ি ছাড়তেও বলেছেন বাড়ির মালিক। দিন চারেক  আগে হেলিকপ্টার থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে ফুল ছড়ানো হয়। এদিন, ডাঃ অমরেশ মাজিকে অভিবাদন জানানোর এই ছবি, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের সেবায় রত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যে মনে সাহস যোগাবে ও উৎসাহিত করবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

- Advertisement -

ডাঃ অমরেশ মাঝি আসানসোল মহকুমার সালানপুর ব্লকে পিঠাইকেয়ারি গ্রামীণ হাসপাতালে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন তিনি সেখানে আছেন। যেদিন হাসপাতালের আউটডোরে তিনি ডিউটি করেন, সেদিন আউটডোরে ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো । আবার যদি কখনো ইনডোরে বা ওয়ার্ডে নিজের ডিউটির পরে, যদি দেখেন চিকিৎসক আসেননি, তাহলে তার কাজটাও তিনি করে দেন । ডাঃ মাঝি বলতে গেলে প্রায় প্রতি মাসেই একবার করে দুঃস্থ ও আদিবাসী সমাজের মানুষ আছেন, এমন এলাকায় কোনো সামাজিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্য শিবির করেন। সবাইকে চিকিৎসা করার পাশাপাশি, তাদের বিনামূল্যে ওষুধও দেন বলে জানালেন একটি সামাজিক সংগঠনের সদস্য অভয় মন্ডল। অভয়বাবুর মতো লোকেরা যারা অমরেশবাবু সঙ্গে রয়েছেন, তারা মনে করেন এমন একজন ভালো মানুষ এই হাসপাতালে কাজ করেন। তাই সবাই নিশ্চিন্ত থাকেন।

অমরেশবাবু বলেন, ‘এদিন এতো ভালোবাসা পেয়ে আমার মানুষের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল। আসানসোলের যে হাসপাতালে এতদিন কাজ করলাম, যেখানে করোনার চিকিৎসা করলাম, তাতে বুঝলাম জেলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যথেষ্ট ভালো। তাই কাজও ভালো হচ্ছে। আমি চিকিৎসক হিসাবে পশ্চিম বর্ধমান জেলার মানুষদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, ভয়ের কোন কারণ নেই। নিজেরা একটু সতর্ক থাকুন। সব নির্দেশ মেনে চলুন।’