মাদ্রিদ, ২ জুনঃ ইংল্যান্ড ঘরের মাটিতে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতবে কী না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ইউরোপা লিগ লন্ডনে যাওয়ার পর লিভারপুল শহরে এল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি। ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব টটেনহ্যামকে হারিয়ে। গত জুলাইয়ে সাড়া জাগিয়েও ফুটবল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রিটিশরা। তবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড়ো ট্রফি এল ইংল্যান্ডে। একই সঙ্গে ক্লাব ফুটবলে টানা ছটি ফাইনাল হারার পর অবশেষে চ্যাম্পিয়ন হওযার স্বাদ পেলেন লিভারপুল কোচ যুরগেন ক্লপ। মাদ্রিদে শেষ পর্যন্ত শাপমুক্তি হল ক্লপের। শাপমুক্তি হল লিভারপুলেরও। গতবার রানার্স, প্রিমিয়ার লিগে এগিয়ে থেকেও রানার্স হওয়ার পর অবশেষে জয়ের আনন্দ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অল ইংল্যান্ড ফাইনালের দু মিনিটের মধ্যে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে এগিয়ে যায় লিভারপুল। ম্যাচের ৫৩ সেকেন্ডে বক্সের মধ্যে সাদিও মানের ক্রস হাতে লাগে টটেনহ্যামের সিসোকোর। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টি দেন। হুগো লরিসকে পরাস্ত করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন মহম্মদ সালাহ। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের শুরুতেই চোখের জলে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল ‘মিশরের রাজা’কে। এদিন শুরুতেই তাঁর পা থেকেই এল প্রথম গোল। শুরুতেই গোল খেলেও লিভারপুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলছিল টটেনহ্যাম। কিন্তু হ্যারি কেন ফর্মে না থাকায় অ্যাটাকিং থার্ডে তাদের সব আক্রমণ খেই হারিয়ে যাচ্ছিল। লিভারপুলের জমাট ডিফেন্স কিছুতেই ভাঙতে পারেননি টটেনহ্যামের স্ট্রাইকাররা। তাই বল পজেশন বেশি রেখেও কোনো লাভ হয়নি কেন, ডেলে আলিদের।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও চাপ বাড়ায় টটেনহ্যাম। সেমিফাইনালের নায়ক লুকাস মৌরাকে নামান টটেনহ্যাম কোচ পোচেত্তিনো। ৮০ মিনিটের মাথায় প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে এরিকসনের ডান পায়ের দূরন্ত শট দারুণ বাঁচান লিভারপুল গোলকিপার অ্যালিসন। ফিরতি বলে লুকাস মৌরার শট ফের বাঁচান অ্যালিসন। ৮২ মিনিটের মাথায় টপ বক্সে ফ্রিকিক পায় টটেনহ্যাম। এরিকসনের ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো ফ্রিকিক ফের বাঁচান অ্যালিসন। উল্টোদিকে, ৮৬ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে বল পান লিভারপুলের ওরিগি। বাঁ পায়ের শটে লরিসকে পরাস্ত করে ব্যবধান বাড়ান বেলজিয়ান ওরিগি। তারপরে গোল শোধের অনেক চেষ্টা করে টটেনহ্যাম। কিন্তু অ্যালিসনের দস্তানাকে পরাস্ত করতে পারেনি তারা। ২-০ ব্যবধানেই ম্যাচ জেতে লিভারপুল।