যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সিতে এবার পরীক্ষা ছাড়াই ভর্তির সম্ভাবনা

380

কলকাতা : করোনার জেরে সারাদেশের সঙ্গে রাজ্যেও পড়াশোনা কার্যত শিকেয় উঠেছে। এরই মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল বেরিয়ে গিয়েছে। তাই সর্বত্র ভর্তির ঘণ্টাও বেজে গিয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক কবে আসবে, কবে শেষ হবে এই মহামারি, কারও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে আর অপেক্ষা না করে ১০ অগাস্ট থেকে যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। ভর্তির পরীক্ষা আদৌ নেওয়া সম্ভব হবে বলে এখনও কেউ মনে করছেন না। তবে নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজেরাই এই সিদ্ধান্ত নেবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানকার কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকদের বলা হয়েছে, পরীক্ষা না নিয়ে কীভাবে ভর্তি করা যায় সে ব্যাপারে একটি ফর্মুলা তৈরি করতে। গত বছর পর্যন্ত কলাবিভাগের সব বিষয়ে ভর্তির পরীক্ষা নিয়েছিল যাদবপুর। এক অধ্যাপক বলেন, পরের সপ্তাহে আমাদের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের বৈঠক হবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। অগাস্ট থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ফর্ম বিলি শুরু করবে। উচ্চমাধ্যমিকের সব পরীক্ষা শেষমেশ নেওয়া সম্ভব হয়নি করোনার দাপটে। তাই কিছু কিছু বিভাগ চিন্তা করছে পড়ুয়াদের মাধ্যমিক বা সমতুল বোর্ড পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করার কথা। পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, বিভিন্ন বোর্ডের পড়ুয়াদের সমতুল ধরে নিয়ে আসন বণ্টন করার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে। কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের মতামত শুক্রবারের মধ্যে চাওয়া হয়েছে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অফিসার বলেন, ভর্তি পরীক্ষা প্রয়োজনীয়, এটা ঠিক। কিন্তু এবছর তা নেওয়া সম্ভব নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যাঁরা আবেদন করেন, তাঁরা অনেকে দূরদূরান্তের শহর-গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের কলকাতায় আসার যেমন উপায় নেই, তেমনই অনেকেরই অনলাইন পরীক্ষা দেওয়ারও উপায় নেই। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটা আসার কথা রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন বোর্ডের তরফে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রবীণ অফিসার জানান, ভর্তির পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে হবে, অনলাইন না অফলাইন নাকি পুরোনো পদ্ধতিতে আগের পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে তা বোর্ডই ঠিক করবে। তবে এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে খুব শীঘ্র শিক্ষাবর্ষ শুরু করা যাবে বলে মনে হয় না। প্রেসিডেন্সিতে ভর্তি হওয়ার জন্য আলাদা একটি পরীক্ষা হয়। তার নাম প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ব্যাচেলার্স ডিগ্রি এন্ট্রান্স। এই পরীক্ষা এপ্রিলে হওয়ার কথা থাকলেও মহামারির কারণে তা স্থগিত রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার নিয়মকানুনও করোনার কারণে বদলে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল জানিয়েছেন, আগে জয়েন্ট এন্ট্রান্স (মেইন) পাশ করলেও দ্বাদশ পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ নম্বর না থাকলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা এনআইটিতে ভর্তি হওয়া যেত না। কিন্তু এবছর এই ৭৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া ভর্তির জন্য আর জরুরি বলে বিবেচিত হবে না।

- Advertisement -

প্রতিবছরই মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভালো প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলে রাজ্য ছেড়ে চলে যান। কিন্তু এবছর করোনা আতঙ্কে অধিকাংশ পড়ুয়াই রাজ্যের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না। অভিভাবকরাও তাঁদের ভিনরাজ্যে পাঠাতে তেমন আগ্রহী নন। এর ফলে এবছর স্কুল-কলেজগুলিতে রীতিমতো ঠাঁই নাই অবস্থা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানিয়ে রেখেছে এখনও পর্যন্ত স্নাতকস্তরে আসন সংখ্যা বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। কলেজ খুললেও সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে ক্লাসরুমে পড়াশোনা চালাতে হবে। তাই জায়গার অভাব থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও আসন বাড়াতে আগ্রহী নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভালো নম্বর পাওয়া অনেক ছাত্রছাত্রীও এবছর ভর্তি হতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কলকাতার কিছু ভালো প্রতিষ্ঠানেও ভিনরাজ্যের পড়ুয়ারা আসতেন। কিন্তু তাদের কাছেও এবছর ভিনরাজ্যের পড়ুয়াদের তরফে তেমন খোঁজখবর করা শুরু হয়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে এনিয়ে মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে বেশ হতাশা রয়েছে। অনেকেই দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু আপাতত তাঁদের এরাজ্যের নামী প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।