ঐতিহ্য মেনে পালিত হল চট্টোপাধ্যায় বাড়ির জগদ্ধাত্রীপুজো

177

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: রাঢ়বাংলার একটি প্রাচীন জনপদ গোমাই। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্ৰাম ২ ব্লকের নবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত অন্তর্গত গঙ্গাটিকুরি, শিবলুন, বেলুন ও গোমাই গ্রামে পূজিত হন হৈমন্তিক দেবী জগদ্ধাত্রী। তারমধ্যে একমাত্র গোমাই গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে ১৮৬১ সাল থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো হয়ে আসছে। এই বংশের পূর্বপুরুষ রামতনু চট্টোপাধ্যায় পুজোর পত্তন করেছিলেন। সেই পুজোকে ঘিরেই এখন মাতোয়ারা গোমাই গ্রাম।

গোমাই গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কুলগুরু বীরাচারী তান্ত্রিক উমেশচন্দ্র ভট্টাচার্য যে নিয়ম ও পদ্ধতিতে পুজো আরম্ভ করেছিলেন সেই রীতি মেনেই আজও পুজো হয়ে আসছে। তবে, এখন মূলবেদীর পুজো আরও দুই শরিক নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়েছেন। তাই চট্টোপাধ্যায় বংশে ৩ টি পুজো চলছে।

- Advertisement -

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে মূলবেদীর পুজো বন্ধ রয়েছে। দুই শরিক দেবীপ্রসন্ন ও সনৎ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে তাঁদের পুত্রগণ দীর্ঘকাল আগের মতই মহাধুমধামে দেবী আরাধনা করেন। এবছর করোনা আবহে দেবীবাবুর বাড়িতে নিয়মমেনে পুজো হলেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যসভা এই সবের আয়োজন বন্ধ রাখা রাখা হয়েছে।

গোমাই গ্রামের চট্টোপাধ্যায়দের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এ বাড়িতে দু’দিনে পুজো হয়। নবমীতে তিনটি পুজোয় থাকে শাক্ত তন্ত্রাচারবিহিত নৈবেদ্য, ভোগ, বলি, আরতি, কুমারীপুজো। দুপুরে গ্রামের মানুষদের নিয়ে পঙক্তিভোজন চলে। সন্ধ্যায় আরতি শেষে পরিবার সদস্যরা বীরাচারে শিবাভোগ দিতে যান গ্রাম সীমান্তে। দশমীতে অপরাজিতা পুজো শেষে হয় বিসর্জন। এই পুজোগুলির সঙ্গে অংশ নিয়ে থাকেন গ্রামের অনেক মানুষ। শারদীয় সব পুজোর শেষে হলে যখন বিষাদ আনে তখন গোমাই-এর চাট্টোপাধ্যায়রা শুরু করেন বাৎসরিক আনন্দয়ীয় আরধানা।