চিলাপাতায় বোতল কুড়িয়ে সংসার চলে জহরের

63

অভিজিৎ ঘোষ, সোনাপুর : সমাজের যেন দুই ছবি। একদিকে যখন বেলেল্লাপনা করে অসচতেনতার বশে যেখানে-সেখানে আবার্জনা ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। ঠিক তার উলটোদিকে কেউ সেই আবর্জনা থেকে বোতল কুড়িয়ে তা বিক্রি করে নিজের পেটের ভাত জোগাচ্ছেন। এমনই চিত্র ধরা পড়ছে চিলাপাতার বনাঞ্চলে।চিলাপাতার মনের মানুষ পিকনিক স্পটটি বরাবরই জনপ্রিয়। শীতের মরশুমজুড়ে এই জায়গায় পর্যটকরা ভিড় করেন। শীতের পরেও অনেকে ভিড় করেন। তবে অভিযোগ, একাংশ মানুষ জায়গাটিতে আবর্জনা ফেলে নোংরা করেন। চড়ুইভাতিতে আসা দলগুলি পানীয় জলের বোতল ফেলে যাচ্ছে। এই চিত্রই ধরা পড়েছে মনের মানুষ পিকনিক স্পটে।

এদিকে, ওই বোতলের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রেখা যাওয়া হয় মদের বোতলও। কিছু ব্যতিক্রমীরা ওই জায়গা নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করেন। এমনই একজন আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের মথুরা ডিভিশন চা বাগান এলাকার বাসিন্দা জহর ওরাওঁ।  পিকনিক স্পটে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল এবং মদের বোতল কুড়োন তিনি। এগুলো বিক্রি করেই পেটের ভাত জোগাড় করেন। পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে উপার্জনের কিছু অর্থ যেন তাঁর কাছে পুরস্কারস্বরূপ।

- Advertisement -

চিলাপাতার পিকনিক স্পটে মদের আড্ডা এবং সেখানে অপরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দূষণ ছড়াচ্ছে। পার্শ্ববর্তী বানিয়া নদীতে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে উত্তরবঙ্গ সংবাদে। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে বলে অভিযোগ। সেই জায়গায় জহরের মতো কিছু ব্যক্তিত্ব সমাজের আরেক দিক। পেশায় সবজি বিক্রেতা জহর। চা বাগানের জঙ্গল থেকে শাকপাতা কুড়িয়ে জমা করেন। আবার সেগুলোই বাগানের বাজারে বিক্রি করেন। ওঁর দাদারা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কাজ করেন। পরিবারের খরচ চালাতে সবজি বিক্রি করার পাশাপাশি পিকনিক স্পটে বিভিন্ন লোকের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল এবং মদের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করেন।  জহর বলেন, ১০ টাকা কেজি দরে প্লাস্টিক এবং একটি কাচের বোতল এক থেকে দুই টাকায় বিক্রি করি। এইভাবে কিছু উপার্জনও হয়। জঙ্গলের মাঝখানে এমন সুন্দর জায়গা নোংরা হয়ে থাকে। কিন্তু  কেউ সেটা পরিষ্কার করে না। আমার উপার্জনের তেমন কোনও উপায় নেই। তাই ওই বোতলগুলি কুড়িয়ে বিক্রি করি। এতে আমারও কিছু উপার্জন হয়। পরিবেশটাও পরিষ্কার থাকে।