আপাতত কারাবাস নয়, স্বস্তিতে কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

347

নয়াদিল্লি: কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবারই সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করে। কিন্তু, এই সাজা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় স্বস্তিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিলীপ রায়। কারণ, এই রায়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার প্রাক্তন মন্ত্রী দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেন এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে আপাতত জেলে যেতে হচ্ছে না তাঁকে। দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি সুরেশ কুমার এ নিয়ে সিবিআইকে নোটিস পাঠিয়েছেন। ফলে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হল এই মামলায়।

যদিও রায় ঘোষণার পর সোমবারই এক লক্ষ টাকা বেল বন্ডের বিনিময়ে এই মামলায় জামিন মঞ্জুর হয়েছিল দিলীপ রায়ের। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে পালটা মামলা করার জন্য ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর কাছে সময় ছিল। কিন্তু কালবিলম্ব না করে মঙ্গলবারই তিনি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আর তাতেই মিলল স্বস্তি। কীসের ভিত্তিতে এই রায়, তার জবাবদিহি চেয়ে সিবিআইকে নোটিস পাঠিয়েছেন বিচারপতি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ নভেম্বর।

- Advertisement -

দিলীপ রায় অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কয়লা দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঝাড়খন্ডে কয়লা ব্লক বন্টন মামলায় ১৯৯৯ সালে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন এনডিএ সরকার অভিযোগের তদন্তভার সিবিআই-কে দিয়েছিল। তদন্তে নেমে সিবিআই ওই দুর্নীতিতে তৎকালীন রাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপের যোগসাজশ খুঁজে পায়। দিলীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাদী এবং বিবাদী পক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর দিলীপ-সহ ৪ জন ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। এরপর আজ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই আদালত তাঁকে ৩ বছর কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে। তাঁর সঙ্গে কয়লা মন্ত্রকের তৎকালীন দুই পদস্থ অফিসার প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নিত্যানন্দ গৌতমও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁদের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছিল সিবিআই। ওই দুর্নীতিতে লাভবান এক বেসরকারি সংস্থার কর্ণধারের জন্যও তারা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছিল।

দিলীপের জন্য কারাদণ্ড ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারক জানিয়েছিলেন, মন্ত্রী থাকাকালীন দিলীপ বেআইনি এবং অসৎ ভাবে বেসরকারি এবং পরিত্যক্ত কয়লাখনি এলাকা একটি বিশেষ সংস্থাকে পাইয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে ব্রহ্মডিহা কয়লা ব্লক বন্টনে ওই ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল। দিলীপকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যার অর্থ, সরকারি পদাধিকারী হয়ে বিশ্বাসভঙ্গ। যা ফৌজদারি অপরাধ।