অজিত দোভালের ওপর হামলার ছক জইশ-ই-মহম্মদের

125

নয়াদিল্লি: ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ওপর হামলার ছক কষেছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্যরা। বেশ কয়েকবছর ধরে তাঁকে নিশানা করা হয়েছে বলে সম্প্রতি জানা গিয়েছে। একথা জানার পরই দোভালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীনগর থেকে ধৃত সশস্ত্র জইশ জঙ্গি হিদায়ত-উল্লা মালিককে জেরা করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে লক্ষ্যবস্তু করা সংক্রান্ত বিস্ফোরক তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ২০১৬-র সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর থেকেই পাকিস্তানের জঙ্গিদের হিট লিস্টে চলে আসেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এরপর ২০১৯ সালে বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার নৈশ অভিযানের পর তাঁকেই টার্গেট করে পাক জঙ্গিরা।

- Advertisement -

জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ানের বাসিন্দা হিদায়তকে ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠীর অন্যতম শাখা লস্কর-ই-মুস্তাফার প্রধান হিদায়ত। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় হিদায়ত জানিয়েছে, ২০১৯-এর ২৪ মে শ্রীনগর থেকে বিমানে নয়াদিল্লিতে আসে সে। অজিত দোভালের দপ্তর, বাড়ি এবং সেখানকার নিরাপত্তা সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করাই উদ্দেশ্য ছিল তার। ওই জায়গাগুলির ভিডিও করে বলে সে জানিয়েছে। এমনকি কীভাবে দোভালের ওপর হামলা চালানো যায়, সেই পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দিষ্ট এলাকা সে ঘুরে দেখেছিল। লক্ষ্যস্থলের রেকি করার পর বাস ধরে সে চলে যায় কাশ্মীরে। এরপর যাবতীয় তথ্য সে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাকিস্তানে জনৈক ডক্টরকে সে জানিয়ে দেয়।

তদন্তকারীদের জেরায় হিদায়ত আরও জানিয়েছে যে, সে কেবল অজিত দোভালের বাসভবন বা দপ্তর নয়, সর্দার প্যাটেল ভবন সহ দিল্লির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকারও রেকি করেছিল। ওই বছরই আরও এক সঙ্গী সমীর আহমেদ দারের সঙ্গে সাম্বা সেক্টরও ঘুরে দেখে তারা। এই সমীর পুলওয়ামা হামলার অন্যতম চক্রী বলে জানা গিয়েছে। ২০২০ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় হিদায়ত স্বীকার করেছে, ২০২০-র মে মাসে আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য তাকে একটি স্যান্ট্রো গাড়ি দেওয়া হয়। এছাড়া ওই বছরেরই নভেম্বরে আরও জনা তিনেক জইশ জঙ্গিকে নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ব্যাংকের একটি গাড়ি লুঠ করে ৬০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। তদন্তকারীদের আরও দাবি, পাকিস্তানের ১০ জনের নাম, কোড নম্বর, ফোন নম্বরও তাঁদের জানিয়েছে হিদায়ত। তাদের মধ্যে দুজন শোপিয়ান এবং সোপোরে ইতিমধ্যে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছে।

অন্যদিকে, উপত্যকায় তিন বিজেপি কর্মী খুনে অভিযুক্ত এক লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম জহুর আহমেদ রাঠের। জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা জেলা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বছর সেখানকার ৩ বিজেপি কর্মী ফিদা হুসেন, উমর রশিদ বেগ এবং উমর হাজামকে খুনের পিছনে তার হাত ছিল বলে দাবি পুলিশের।