প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে খোলা হবে পিএসকে: বিদেশমন্ত্রী

283

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ৫৪৩টি লোকসভা নির্বাচনী কেন্দ্রে পিএসকে বা ডাকঘর পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বুধবার এমনই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর।

এদিন পাসপোর্ট সেবা দিবস উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ‘দেশের প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে ডাকঘর পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ তিনি এও বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত ৪৮৮টি নির্বাচনী কেন্দ্রে জরুরি এই পরিষেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্র। করোনার জেরে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করা হলে বাকি কেন্দ্রগুলিতে হওয়া কাজে বাধা পড়ে। বাকি কেন্দ্রগুলিতে এই প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেলেও, নতুন করে আবার উদ্যোগী হচ্ছে মন্ত্রক।’

- Advertisement -

জয়শঙ্কর বলেন, ‘মহামারীর মধ্যে দেশে, বিদেশে পাসপোর্ট সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা যাঁরা নিরলস কাজ করে চলেছেন তাঁদের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। খুব শীঘ্রই দেশের বাকি নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে ডাকঘর পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র খুলে পাসপোর্ট পরিষেবাকে এক নয়া উচ্চতা দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।’

প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ২৪ জুন পাসপোর্ট পরিষেবা দিবস পালন করে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রক। দেশজুড়ে পাসপোর্ট পরিষেবা যাতে সু-ত্বরান্বিত করা যায়, কম সময়ে ও কম খরচায় কত দ্রুত গ্রাহকদের হাতে পাসপোর্ট সেবা তুলে দেওয়া যায় তার জন্য সর্বদা সচেষ্ট কেন্দ্র।

২০১৬ সালে সুলভে জরুরি পাসপোর্ট পরিষেবা দেয়ার জন্য আলোচনা বসে লোকসভায়। তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী তথা প্রয়াত বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের নেতৃত্বে পাসপোর্ট পরিষেবা নিয়ে চলা দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন শশী থারুর, মহম্মদ সেলিম, অর্পিতা ঘোষ সহ একাধিক সাংসদেরা। সংসদেই বিরোধীরা এই প্রস্তাব রেখেছিলেন যে দেশের সমস্ত লোকসভা নির্বাচনী কেন্দ্রে একটি করে ডাকঘর পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র খোলা হোক। বলা হয়েছিল, প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রের অধীন জেলাসদরে প্রধানতম ডাকঘরগুলিতেই এই পিএসকে সার্ভিস দেওয়া হবে। সেই প্রস্তাবে রাজি হয় কেন্দ্র।

২০১৭ সাল নাগাদ বিদেশমন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয়, প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে পিও-পিএসকে (পোস্ট অফিস পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র) খোলার। বিশেষ বার্তা দেওয়া হয় রাজ্য সরকারগুলিকে। রাজ্যের প্রথম পিও-পিএসকে খোলে আসানসোলে। পরে শিলিগুড়ি সহ উত্তর এমনকি দক্ষিণবঙ্গের নানা জায়গায় খোলা হয় এই পিও-পিএসকে। এবার সেই কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক।

উল্লেখ্য, পাসপোর্ট সেবা প্রোগ্রামের (পিএসপি) অধীন এখনও পর্যন্ত ৯৩টি পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র ও ৪২৪টি পোস্ট অফিস পাসপোর্ট সেবাকেন্দ্র রয়েছে সারাদেশে। ২০১৯ সালে প্রায় ১.২২ কোটিরও বেশি পাসপোর্ট কেন্দ্র ইস্যু করেছে দেশে ও বিদেশে। শুরু হয়েছে ডিজিটাল পাসপোর্ট পরিষেবাও। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি মানুষের হাতে জরুরি পাসপোর্ট তুলে দিতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এই বাকি লোকসভা নির্বাচনী কেন্দ্র জুড়ে পিএসকে চালু করার কথা ভাবছে মোদি সরকার।