জলঙ্গিতে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ১

331

জলঙ্গি, ৭ ফেব্রুয়ারিঃ জলঙ্গি থানার সাহেবনগর গ্রামের এনআরসি এবং সিএএ বিরোধী নাগরিক মঞ্চের দুই সদস্য খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল জলঙ্গি থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম হায়দার আলি। বাড়ি জলঙ্গি থানার জয়পুর ঘোরামারা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হায়দার আলি তৃণমূলের সক্রিয় একজন কর্মী। পাশাপাশি সে ঘটনার মূল অভিযুক্ত তাহিরুদ্দিন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ।

গত ২৯ জানুয়ারি জলঙ্গির সাহেবনগর বাজার এলাকায় এনআরসি এবং সিএএ বিরোধী নাগরিক মঞ্চ একটি বন্‌ধ ডেকেছিল। জলঙ্গি উত্তর তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তাহিরুল মণ্ডল এবং তাঁর কর্মীরা এসে বন্‌ধ সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। তাঁদের উদ্দেশ্য করে গুলি এবং বোমাও ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় সালাউদ্দিন শেখ এবং আনারুল বিশ্বাস নিহত হন এবং কয়েকজন বন্‌ধ সমর্থক আহত হন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বন্‌ধ সমর্থকদের আরও অভিযোগ, ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত তাহিরুল মণ্ডলের ভাই মন্টু মণ্ডল। ঘটনার পরদিনই মন্টু মণ্ডল সহ আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত ঘটনার মূল অভিযুক্ত তাহিরুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করা যায়নি।  ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এবং মৃতদের পরিবারের তরফে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দার আলি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডোমকলের এসডিপিও সন্দীপ সেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত হায়দর আলি জলঙ্গির জোড়া খুনের ঘটনায় যুক্ত ছিল। এই বিষয়ে জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘হায়দার আমাদের দলের কেউ নয়। এলাকাতে সে একজন সমাজ বিরোধী হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে আমাদের দলের কোনো যোগ নেই। প্রশাসন নিজের কাজ করছে। বিরোধীরা আমাদের দলকে বদনাম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে শুরু করেছে।’ জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও পুলিশের কাছে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযুক্তকে বহরমপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৭ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনার তদন্ত চলছে।

- Advertisement -