ধূপগুড়ি : নবনির্মিত জলঢাকা সেতুর পিলারের কংক্রিটের আস্তরণ ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে গিয়েছে। আর তার জেরে নবনির্মিত সেতুর কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনাটি কয়েকদিন আগে ঘটলেও শনিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। স্থানীয় অনেকেই সেতু নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পিলারের ওই অংশে মেরামতির কাজ শুরু করেছে ঠিকাদার সংস্থা।

ধূপগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি যাওয়ার পথে নবনির্মিত জলঢাকা সেতুর দ্বিতীয় পিলারে নীচের দিকে কংক্রিটের মোটা আস্তরণ ভেঙে পড়েছে। কী কারণে কংক্রিটের চাদর উঠে গেল, তা খতিয়ে হচ্ছে। বর্তমানে ওই পিলারের পাশে সীমানা ঘেরা দেওয়ার কাজ চলছে। ঠিকাদার কোম্পানির এক কর্মী জানান, সীমানা ঘেরা দিয়ে পিলারের ওই অংশটিতে মেরামতির কাজ করা হবে। কীভাবে পিলারের রড বেরিয়ে এল সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলঢাকা সেতুর নির্মাণ সহ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ নিয়ে ঠিকাদার কোম্পানি এখনও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে কাজ হস্তান্তর করেনি। এদিকে জলঢাকা সেতু দ্বারা শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি সহ ওই দিকের সমস্ত এলাকার সঙ্গে ধূপগুড়ি সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা হয়। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সঙ্গেই জলঢাকার দ্বিতীয় তথা নতুন সেতুর কাজও দ্রুত করা হচ্ছিল। বর্তমানে পুরানো সেতুটিতে যাতায়াত বন্ধ করে সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নবনির্মিত সেতু চালু করে দেওয়া হয়েছে। জলঢাকা এলাকার বাসিন্দা সুদেব ঘোষ বলেন, ‘জলঢাকা সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু সেতু চালু হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় পিলারের আস্তরণ ভেঙে পড়ছে। তাই আগামীতে কী ঘটনা ঘটবে কিনা সেটা নিয়েও আশঙ্কা থাকে।’

মূলত ওই সেতুর ওপর দিয়ে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জায়গার মানুষের যোগাযোগ হয়। স্বভাবতই পিলারে কিছু ঘটলে সমস্যা যথেষ্টই বাড়বে বলে দাবী করা হয়েছে। পিলারের ওই অংশ ঠিক করার জন্যে নির্মাণ সংস্থার কর্মীদের লাগানো হয়েছে। তাঁরা আপাতত নদীতে নেমে বালি ভরতি বস্তা দিয়ে পিলার ঘিরছেন। পরবর্তীতে পিলার পাশ থেকে জল সরিয়ে দিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঠিকাদার কোম্পানি কাজ শুরু করবে।  কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিক প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এখনও ঠিকাদার সংস্থার থেকে কাজ হস্তান্তর হয়নি। সম্পূর্ণ কাজ বুঝেই কাজ হস্তান্তর নেওয়া হবে। তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। এছাড়া পুরো প্রোজেক্ট একসঙ্গে হস্তান্তর হবে। পাশাপাশি হস্তান্তর হলেও চারটি প্রোজেক্টের ওয়ারেন্টি ওই কোম্পানির ওপরই থাকবে।

ছবি- সেতুর পিলারের আস্তরণ উঠে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে।

তথ্য ও ছবি- শুভাশিস বসাক