শীতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত জলঢাকা উপত্যকা

578

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : সৌন্দর্যের ডালি উপুড় করে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শীতের জলঢাকা উপত্যকা। সমতলের কুমাই থেকে প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতার ভারতের শেষ গ্রাম তাংদা পর্যন্ত নানা স্থান মিলিয়ে ৩৫টি হোমস্টে এখন ভ্রমণপিপাসুদের অপেক্ষায় দিন গুনছে। জলঢাকা অফবিট টুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের কোঅর্ডিনেটার প্রণয় বরাইলি বলেন, যাঁরা নিরিবিলি পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য জলঢাকা উপত্যকার কোনও বিকল্প নেই। নিত্যনতুন বহু স্পট এখানে গড়ে উঠেছে। সরকারি উদ্যোগে সেগুলিকে যদি প্রচারের আলোয় নিয়ে আসা হত, তবে বহু মানুষের রুটিরুজির সংস্থান নিশ্চিত হত বলেই মনে করি।

জলঢাকা এলাকাকে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সেখানকার পর্যটন ব্যবসাযীরা প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের উদ্যোগে তৈরি করা হোমস্টেগুলি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। যাঁরা ট্রেকিং ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সেরকম রুট বের করা হয়েছে। কুমাই থেকে তোদে-তাংদা পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি হোমস্টে চালু রয়েছে। সবকটিই স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে তৈরি। বর্তমানে সেখানে কুমাই, মৌরে বস্তি, দলগাঁও, রঙ্গো, ঝালং, প্যারেন, বিন্দু, গোদক, চিসাং, তোদে, পুমসি, পালা, তাংদার মতো নানা স্থানে হোমস্টে গড়ে উঠেছে। পুমসি ও পালা এলাকা দুটি তোদে থেকে আরও ওপরে। সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা ৫,৫০০ ফুট। ভুটান সীমান্তে অবস্থিত পুমসি ও পালা থেকে ভারত, ভুটান ও চিন তিন দেশের সীমানার মিলনস্থল ডোকালামও দেখা যায়।

- Advertisement -

সম্প্রতি জলঢাকা এলাকার নানা স্থান ঘুরে এসেছেন জলপাইগুড়ির প্রদীপ হোড়, চিত্তরঞ্জন ভৌমিক, মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ প্রামাণিকের মতো কয়েকজন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতিটি স্থানই বেড়ানোর পক্ষে আদর্শ। এলাকাগুলির পর্যটন সম্ভাবনা প্রচুর। তবে প্রচারের অভাবে অনেকের কাছেই জায়গাগুলি অজানা। ডুয়ার্স, তরাই ও পাহাড়ে নিত্যনতুন পর্যটনস্থল খুঁজে বের করতে লাগাতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পেশায় শিক্ষক নীলাঞ্জন মিস্ত্রি। তিনি বলেন, জলঢাকা থানার ঝালং ও লাগোয়া এলাকাগুলি রূপে ও সৌন্দর্যে একে অপরকে টেক্কা দেয়। ওইসব স্থানে গিয়ে রাত না কাটালে বেড়ানোর আসল স্বাদ মেলা মুশকিল। হোমস্টেগুলি প্রকৃত অর্থেই পর্যটকবান্ধব।