মিহিরকে দল ও বিধায়কের পদ ছাড়ার পরামর্শ জলিলের

2291

কোচবিহার: সোশ্যাল মিডিয়ায় দলনেত্রীর সমালোচনার ফল হাতে গরমে পেলেন কোচবিহারের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী৷ দলের বর্ষীয়ান নেতাকে দল এবং বিধায়কের পদ ছেড়ে দেওয়ার ‘পরামর্শ’ দিলেন তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদ। শনিবার কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়কে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এই বার্তা দিলেন জলিল সাহেব।

এদিন তিনি বলেন, ‘দলে থেকে দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করা এটা মানায় না।  আমরা তো কিছু পাই না। আমরা পাওনা পাইনি, না পাওয়াও পাইনি।  কিন্তু দলে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সমালোচনা করার ক্ষমতা আমাদের বাবারও নেই। ওনার (মিহির) বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত।‘

- Advertisement -

তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে দলে থেকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে খেয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে কাছের মানুষ হয়ে সে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সমালোচনা করেন, তবে তাঁর দল ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁর দল ছেড়ে দিয়ে এই সমালোচনা করা উচিত। আমি মমতার সমালোচনা করব, আবার বিধায়কও থাকব। এটা হবে না। তাঁর বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁর দলের পদও ছেড়ে দেওয়া উচিত।‘

এদিন জলিলবাবু কটাক্ষ করে বলেন, ‘যার জন্য বিধায়ক হয়েছেন, তাঁর সমালোচনা করা মানায় না। ওঁর কাছে আমাদের যুব সভাপতি অভিজিত দে ভৌমিক গিয়েছে। জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় গিয়েছে। দলের জেলার চেয়ারম্যান বিনয়কৃষ্ণ বর্মন গিয়েছে। মন্ত্রী তথা দলের রাজ্য সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ গিয়েছে। আর কে যাবে?’ তবে নিশীথবাবু যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ও গিয়েছে দেখেই তো তিনি আর এখন মুখ দেখাতে পারেন না।‘

দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে গত ৩ অক্টোবর দলের সমস্ত রকম সাংগঠনিক পদ থেকে নিজের অব্যাহতি ঘোষণা করেছিলেন মিহিরবাবু। এরপর থেকে তিনি তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়সহ জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নানাভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। এরপর শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েও সমালোচনা করেন তিনি। আবার এদিন তিনি দলের কলকাতার নেতাদেরও সমালোচনা করেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের জেলা নেতৃত্বের সমালোচনা পর্যন্ত দল তবু মেনে নিয়েছিল। কিন্তু দলের থেকে খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সমালোচনা করার বিষয়টি আর দল মেনে নিতে চায়নি। ফলে, শনিবার দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে দলের একজন প্রথম সারির বর্ষীয়ান নেতার মিহিরবাবুর উদ্দেশ্যে করা ওই মন্তব্যর যথেষ্টই তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।