পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে কোভিড হাসপাতালে বিক্ষোভ রোগীদের

322

জলপাইগুড়ি: খাবারের পর এবার জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন রোগীরা। শুক্রবার দুপুর থেকে প্রায় ছয় ঘন্টা করোনা হাসপাতালে পানীয় জল এবং শৌচাগারে সমস্ত জল বন্ধ হয়ে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় রোগীদের। অভিযোগ দুপুরে খাবার পর জলের অভাবে ওষুধ পর্যন্ত খেতে পারেননি। অন্য দিকে শৌচাগারে জল না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে রোগীদের। জানা গিয়েছে, বিশ্ববাংলা হাসপাতালের জলের একটি পাম্প খারাপ হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি কোভিড হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবারের গুনগত মান এবং পরিমান নিয়ে অভিযোগ তোলেন রোগীরা। হাসপাতাল থেকে দেওয়া খাবারের ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেন রোগীদের একাংশ। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে বিভিন্ন মহলে। রোগীদের অভিযোগ, ঠান্ডা দুধ, ফ্রীজে থাকা বাসি ডিম সেদ্ধ, নিম্ন মানের পাউরুটি ছাড়াও যে পরিমান খাদ্য খাবার একজন করোনা সংক্রামিত রোগীকে দেওয়া হয় তা পরিমানের তুলনায় খুবই কম।

- Advertisement -

অপরদিকে হাসপাতালের শৌচাগার নিয়মিত সাফ সাফাই হয়না বলেও অভিযোগ তোলেন রোগীরা। পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অপরদিকে খাবারের গুনগত মান নিয়ে অভিযোগ ওঠা ভাইরাল ভিডিও সূর্যকান্ত মিশ্র তার নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে সার্বিক অব্যাবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এই ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার না হতেই এবার পানীয় জলের সমস্যা দেখ দেয় বিশ্ববাংলা কোভিড হাসপাতালে।

জানা গিয়েছে, বেলা দুটো থেকে বিশ্ববাংলা কোভিড হাসপাতালে পানীয় জল অমিল হয়ে যায়। পানীয় জলের পাশাপাশি শৌচাগারেও জলের সমস্যা দেখা দেয়। রোগীদের অভিযোগ দুপুরে খাওয়ার পর অনেকেই এদিন জল পাননি। একইভাবে জলের অভাবে এদিন ওষুধ খেতে পারেননি অনেকেই বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এদিন হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে অনেক রোগী বাইরে বেরিয়ে আসেন। রোগীরা এদিন যখন পানীয় জলের দাবি জানিয়ে হাসপাতালের ভেতর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সেই সময় সমস্যা সমাধান করতে কর্তৃপক্ষের কাউকে দেখা যায়নি সেখানে।

এমনকি সেই সময় হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে যান সেখানের কর্মরত চিকিৎস, নার্স, সাস্থ্য কর্মী এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা। পানীয় জলের জন্য যখন রোগীরা মূল রাস্তায় বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন সেই সময় ঘটনা স্থলে পৌছায় জলপাইগুড়ি কোতয়ালি থানার পুলিশ। রোগীরা যাতে বাইরে বেরিয়ে আসতে না পারেন তার জন্য আটকে দেওয়া হয় বিশ্ববাংলার ক্রীড়াঙ্গনের মূল গেট। গেটের ভেতর থেকেই রোগীরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। রোগীদের অভিযোগ পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তারা জানালে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

একটি সূত্রে জানা গিয়েছে এই হাসপাতালের জলের ব্যবস্থার জন্য এক ঠিকাদারি সংস্থা কাজের বরাত পেয়েছিল। অভিযোগ সেই ঠিকাদারি সংস্থার বিল বকেয়া থাকার জন্য তারাও জলের পাম্প মেরামতি করতে চাইছে না। জানা গিয়েছে এদিন কোভিড হাসপাতালের জলের সমস্যা মেটাতে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। মন্ত্রী এদিন জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত পানীয় জলের দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য।

এদিন মন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, আমার কাছে খবর আসে বিশ্ববাংলায় পানীয় জলের সমস্যা হয়েছে। আমি জেলা শাসককে নির্দেশ দিয়েছি দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য। তিনি আমাকে জানিয়েছেন সমস্যা মিটে গিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি একটি জলের পাম্প খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। জেলা প্রশাসন ভালো কাজ করছে।

পাশাপাশি সূর্যকান্ত মিশ্র রানী নগরের সেফ হোম নিয়ে একটা টুইট করেছিলেন। আমি সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। আগামী দিনে আর সেখানে খাবারের সমস্যা হবে না বলে মনে করি। অপরদিকে পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান বিজয় চন্দ্র বর্মন বলেন, পানীয় জলের সমস্যা হয়েছে আমাকে কেউ জানায়নি। আমাকে একজন রোগী ফোন করেছিলেন সেখান থেকে বিষয়টি জানতে পারি।

আমি জেলা শাসক এবং জেলা মুখ্য সাস্থ্য আধিকারিককে বলেছি পানীয় জলের সমস্যা কেন আমাকে জানানো হয়নি। প্রয়োজনে আমরা সেখানে সাময়িক ভাবে জলের বোতল দিতে পারতাম। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। অপরদিকে জানা গিয়েছে দুপুর থেকে করোনা হাসপাতালে পানীয় জলের সমস্যা থাকলেও এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে কিছুই জানানো হয়নি।

যেখানে সাস্থ্য দপ্তর দ্রুত সমস্যা সমাধন করতে পারছে না সেক্ষেত্রে কেন জেলা প্রশাসনকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। তাহলে কি সাস্থ্য দপ্তরের সাথে জেলা প্রশাসনের কোন সমন্বয়ের অভাব রয়েছে? প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে। জেলা শাসক অভিষেক তেওয়ারি বলেন, করোনা হাসপাতালে পানীয় জলের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে।