ভগ্নপ্রায় আবাসনে বসবাস জলপাইগুড়ি দমকলকেন্দ্রের কর্মীদের

305

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : বিভাগে কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তার ওপরে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আবাসনগুলিও বেহাল হয়ে গিয়েছে। আবাসন সংস্কারের ফাইল কলকাতায় পাঠানো হলেও সেখান থেকে আর্থিক মঞ্জুরি আসেনি। জোড়া সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন জলপাইগুড়ি দমকলকেন্দ্রের কর্মী ও আধিকারিকরা। ফলে যে কোনও সময় বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দমকল কর্তা জানিয়েছেন, আবাসনের সমস্যা সম্পর্কে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আর্থিক মঞ্জুরি এলে আবাসনগুলি সংস্কার করা হবে।

শহরের রেসকোর্সপাড়ায় জলপাইগুড়ি দমকল বিভাগের আবাসনটি ভগ্নদশায় রয়েছে। বছর দশেক আগে থেকেই আবাসনের হাল খারাপ হতে শুরু করে। এখানে চার ধরণের আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে টাইপ এ আবাসনে অফিসাররা থাকেন। টাইপ বি, সি এবং ডি আবাসনে থাকেন দমকলকর্মীরা। আবাসন চত্বরে সাপের উপদ্রব রয়েছে। বসবাসের অযোগ্য আবাসনগুলি যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। বর্তমানে এই আবাসনে ছয়টি পরিবার থাকে। আবাসনের দেওয়ালে গাছ গজিয়েছে। বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কর্মী ও আধিকারিকরা পরিবার নিয়ে আবাসনে রয়েছেন। সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি দমকলকেন্দ্রের তরফে বিষয়টি পূর্ত দপ্তরকে জানানো হয়েছে। পূর্ত বিভাগ আবাসন সংস্কারের প্ল্যান তৈরি করে দমকলের অফিসারদের দিয়েছে। কিন্তু কলকাতায় দমকল দপ্তরে সেই প্ল্যান পাঠানো হলেও কোনও আর্থিক মঞ্জুরি আসেনি। ফলে আবাসন সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়নি। কবে আবাসন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে, সে ব্যাপারে এখনও কোনও আশ্বাস পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বেহাল আবাসনের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি দমকলকেন্দ্রে কর্মীরও অভাব রয়েছে। এই কেন্দ্রে ৫২ জন ফায়ার অপারেটরের পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৪ জন কর্মরত। ফায়ার ইঞ্জিন অপারেটর কাম ড্রাইভারের ৯টি পদ থাকলেও বর্তমানে ৭ জন আছেন। লিডার ফায়ার অপারেটর রয়েছেন ৭ জন। চারজন অফিসারের পদও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে দুর্বল পরিকাঠামোর পাশাপাশি বেহাল আবাসনে বসবাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে জলপাইগুড়ি দমকলকেন্দ্রের অফিসার এবং কর্মীদের কাজ করতে হচ্ছে।

- Advertisement -