উদাসীন কেন্দ্র, চার বছর চা নিলামকেন্দ্রের ঝাঁপ বন্ধ

259

জলপাইগুড়ি : রাজ্যের সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী জলপাইগুড়ি জেলার একমাত্র চা নিলামকেন্দ্রের ঝাঁপ দীর্ঘ চার বছর ধরে বন্ধ। আবেদন-নিবেদন করার পাশাপাশি ঘটা করে দফায় দফায় সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করার পরও কাজ হয়নি। জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় চা নিলামকেন্দ্রের সমস্যা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জানালেও কেন্দ্রের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। ২০০৫ সালে জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্র চালু হওয়ার সময় তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন এবং অর্থমন্ত্রী ডঃ অসীম দাশগুপ্ত এই নিলামকেন্দ্রে বিশেষ কর ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। এই সরকারের আমলেও কর ছাড় দেওয়া হয়নি। জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের ৩০টি ল্যাপটপ বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। চার বছর ধরে চা নিলাম পুরোপুরি বন্ধ। প্রস্তাব করা হয়েছিল জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের মাধ্যমে ২০ শতাংশ ডাস্ট চা নিলাম করা হবে। সে প্রস্তাবেও সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। নিলামকেন্দ্রের বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। নিলামকেন্দ্রটি বর্তমানে কার্যত  ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

জলপাইগুড়ির সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ডাঃ জয়ন্ত রায় জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনা করেন। কিন্তু জলপাইগুড়ির ভাগ্যে এখনও শিকে ছেঁড়েনি। ইতিমধ্যেই চা নিলামকেন্দ্রের কর্মী ছঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দুজন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মাসিক বেতন দিতে হিমসিম খাচ্ছে চা নিলাম কর্তপক্ষ। জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের পরিচালন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান পুরজিৎ বকসিগুপ্ত বলেন, নিলামকেন্দ্রটি চালুর ব্যাপারে আমরা ধারাবাহিকভাবে আবেদন-নিবেদন করে চলেছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, উত্তরবঙ্গে বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপন্ন হয়। এই চা সম্পূর্ণ পরিমাণ বিপণনের পরিকাঠামো শিলিগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রে নেই। জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রে ডাস্ট বিপণনের ব্যবস্থা করা দরকার।

- Advertisement -

রাজনৈতিক দলগুলিও জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্র চালুর দাবিতে সরব হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, নিলামকেন্দ্রটি চালুর দাবিতে আমরা জলপাইগুড়িতে টি বোর্ডের অফিসে ধর্না দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি। জনস্বার্থে আমরা আন্দোলনে নামব। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য বলেন, চা নিলামকেন্দ্র চালুর ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের বিষয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলার মুখপাত্র দুলাল দেবনাথ বলেন, চা পুরোপুরি কেন্দ্রের আওতাধীন। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত দ্রুত জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্র খোলার ব্যবস্থা করা।

টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রভাতকমল বেজবড়ুয়া বলেন, চা শিল্পপতিরা যদি জলপাইগুড়িতে চা নিলাম করতে চান তবে টি বোর্ড সহায়তা করবে। কিন্তু জলপাইগুড়িতে চা নিলামের জন্য চা বণিকসভার প্রতিনিধিদের ওপর টি বোর্ড কোনও চাপ সৃষ্টি করবে না। চা নিলামের বিষয়ে সর্বভারতীয় টি বোর্ডের একটি প্ল্যাটফর্ম আছে। নিলামের ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে।