জল নিষ্কাশনের ভরসা প্রায় ২৪ কোটির রাস্তা

109

জামালদহ: ভরা বৈশাখেও জলে ভরে থাকে রাস্তা। ফলে দুর্ভোগের অন্ত নেই বাসিন্দাদের। রাস্তায় জমে থাকা নোংরা, দূষিত জল পেরিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহের বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা মেটাতে কেউই এতদিন উদ্যোগী হননি। এবার সেই রাস্তার আমূল সংস্কার হচ্ছে। ফলে আশায় বুক বাঁধছেন বাসিন্দারা। সরাসরি জল নিষ্কাশনের কোনও ব্যবস্থা না হলেও রাস্তাটি পুনঃনির্মিত হলে নিকাশির সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। নিজেদের দুর্ভোগ মেটাতে রাস্তার উন্নয়নেই এখন ভরসা তাঁদের।

বৃষ্টি হলেই জামালদহ বাজারের বেহাল ছবি সামনে আসে। বাজারে ঢোকার মেইন রাস্তা জলে থইথই করে। বাধ্য হয়ে দূষিত, নোংরা জল পেরিয়ে এলাকাবাসীকে যাতায়াত করতে হয়। জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, রাস্তাটি এমনভাবে পুনঃনির্মিত হোক, যাতে রাস্তায় জল জমে না যায়। সেই দাবির কথা ইতিমধ্যে প্রশাসনের কাছে তাঁরা জানিয়েছেন। জামালদহ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক হোসেন আলি জানান, সঠিক পরিকল্পনা করে রাস্তার কাজ হোক, যাতে তাঁদের আর দুর্ভোগে পড়তে না হয়। জানা গিয়েছে, জামালদহ বাসস্ট্যান্ড থেকে রানিরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত ১২.৭০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে শুধুমাত্র জামালদহে রাস্তাটির শুরুর দিকে প্রায় ২০০ মিটার অংশে জল জমে থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়। কয়েক পশলা বৃষ্টি হলেই জামালদহ বাসস্ট্যান্ড থেকে ইন্দিরা চৌপথি পর্যন্ত জল থইথই করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জল নিষ্কাশনের বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালদহ বাজার থেকে উছলপুকুরি হয়ে রানিরহাট পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি পুনঃনির্মাণের জন্য ২৩ কোটি ৮৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৬৭২ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কোচবিহার হাইওয়ে ডিভিশনের অন্তর্গত এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ করতে সময় নেওয়া হয়েছে ৫৪০ দিন। কোচবিহার জেলা পূর্ত ও সড়ক বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জ্যোতির্ময় মজুমদার জানিয়েছেন, ওই রাস্তাটি ৫.৫০ মিটার চওড়া করা হবে। রানিরহাটের দিক থেকে রাস্তার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।