ইন্ডিয়ান সুপার লিগের আয়োজকদের সমালোচনা জেমসের

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : দিমিত্রি বার্বাটোভের অভিযোগের জবাব দিলেন ডেভিড জেমস। বুলগেরিয়ান তারকা স্ট্রাইকার তাঁর কেরিয়ারের শেষ সময়টা এদেশে কাটিয়ে গিয়েছেন ইংরেজ বিশ্বকাপারের কোচিংয়ে। কিন্তু দুজনের সম্পর্ক যে মোটেই মধুর ছিল না, সেটা পরিষ্কার একে অপরের বিরুদ্ধে করা অভিযোগেই।

বার্বাটোভ দেশে ফিরে যাওয়ার আগে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ডেভিড জেমসকে তাঁর দেখা সব থেকে খারাপ কোচ বলে বর্ণনা করে যান। এতদিন পর একটি সংবাদমাধ্যমে তারই জবাব দিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন গোলরক্ষক। ২০১৭-১৮ সালে দ্বিতীয়বার ভারতে আসেন তিনি। তবে সেবারই প্রথম পুরোপুরি কোচিংয়ে দেখা যায় তাঁকে। জেমসের সেই সময়কার স্মৃতি যে খুব সুখকর ছিল না তা স্পষ্ট এই সাক্ষাৎকারে। বিশেষ করে বার্বাটোভের মতো তারকাকে সামলাতে তিনি হিমসিম খেয়েছেন। কারণ বুলগেরিয়ান স্ট্রাইকার সবসময়ই বাড়তি মনোযোগ চাইতেন। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না তৎকালীন কেরালা ব্লাস্টার্স কোচ। এই প্রসঙ্গে ডেভিড জেমসের বক্তব্য, দল পরিচালনা নিয়ে আমার নিজস্ব একটা চিন্তাধারা কাজ করত। দলের মধ্যে আলাদা করে সুপারস্টার বা অনামী বলে ধরা হত না। প্রত্যেককেই সমান চোখে দেখতাম। কিন্তু সমস্যা হল, এটাই ঠিকঠাক কাজ করেনি।

- Advertisement -

জেমস জানিয়েছেন, বার্বাটোভের সেসময় ফুটবল জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল যা মানতে চাইতেন না তিনি। বিশেষ করে বাকিদের সঙ্গে ফিটনেসে একেবারেই পাল্লা দিতে পারতেন না বুলগেরিয়ান তারকা। ঝামেলা বাড়ে মরশুমের শেষ ম্যাচে। যেখানে বার্বাটোভকে বাদ দেন জেমস। সেটা যে বার্বাটোভ মেনে নিতে পারেননি, তা জানতেন ব্লাস্টার্স কোচও। এরপর দুজনের সম্পর্ক কতটা খারাপ হয়, তার প্রমাণও দিয়েছেন ইংল্যান্ডের এই বিশ্বকাপার। গতবছর সিঙ্গাপুরে প্রাক্তনদের এক ম্যাচে আবার দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। তিনি জানান, ওর আচরণ সবসময়ই বেশ হাস্যকর। গতবছর সিঙ্গাপুরে একটা ম্যাচ খেলতে গিয়ে আমাদের দেখা হয়। সেদিন ও আমাকে বারবার গোল দেওয়ার চেষ্টা করছিল কিন্তু পারেনি। সেদিন ম্যাচটা আমরা জিতেছিলাম বলে আমি অন্তত খুব খুশি। তাঁর সেই সময়কার ব্লাস্টার্স দলে ছিলেন ওয়েস ব্রাউনের মতো তারকাও। কিন্তু তাঁকে সামলাতে কোনও সমস্যাই হয়নি বলে জানান জেমস। বরং দলের প্রত্যেকের সঙ্গে কীভাবে মিলেমিশে থাকতেন ব্রাউন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

বার্বাটোভ প্রসঙ্গ ছাড়াও ইন্ডিয়ান সুপার লিগ নিয়ে বলেছেন জেমস। প্রথম বছরেই তিনি মার্কি ফুটবলার কাম কোচ হিসেবে ব্লাস্টার্সে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর ফের ২০১৮ সালে শুধু কোচ হিসেবে রেনে মিউলেনস্টিনের পরিবর্তে যোগ দেন তিন বছরের চুক্তিতে। কিন্তু সেবার সেপ্টেম্বরে নতুন মরশুম শুরুর ঠিক আগে অগাস্টে কেরলে প্রচণ্ড বন্যা হয় যা আর্থিকভাবেও ফ্র‌্যাঞ্চাইজির ক্ষতি করেছিল বলে জানিয়েছেন এই বিশ্বকাপ তারকা। পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা ক্লাবের পারফরমেন্সে প্রভাব ফেলেছিল বলে তাঁর ধারণা। তিনি এই প্রসঙ্গে খানিকটা আইএসএল আয়োজকদেরই সমালোচনা করে বলেছেন, কবে টুর্নামেন্ট শুরু হবে, আগে থেকে তার কোনও ধারণা দেওয়া হত না। হঠাৎ জানিয়ে মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যে খেলা শুরু হয়ে যায়। সেবার ভারত এএফসি এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পায়। তার জন্য মরশুমের মাঝে হঠাৎ পাঁচ সপ্তাহ বিরতি দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেটাও মরশুমের শুরুতে জানানো হয়নি। ১২ ম্যাচে মাত্র একটা জেতায় তাঁকে এই বিরতির মধ্যেই ছেঁটে ফেলা হয়। অথচ তাঁর তিন মরশুমের জন্য একটা পরিকল্পনা করা ছিল বলে জানিয়েছে ওই সংবাদমাধ্যম।

এই প্রসঙ্গে জেমসের মন্তব্য, আমার ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা বেশ খারাপ। কারণ আমি জানতাম আমাকে কী কী করতে হবে। কিন্তু অন্য একটা জায়গায় গিয়ে কাজ করতে গেলে পরিস্থিতি সবসময় নিজের ভাবনা অনুয়ায়ী চলে না। তবে এতকিছুর পরেও ভারত এবং এশিয়াতে কাজ করার ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। এমনকি পাকাপাকিভাবে এখানে চলে আসতে চান। কোচিংয়ে পর ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসাবেও কাজ করছেন তিনি। তাঁর এই বিষয়ে বক্তব্য, ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করতে খারাপ লাগে না। কিন্তু এই কাজ ফুটবলে কোনও পরিবর্তন আনতে পারে না। কিন্তু সেটাই চাই। সফল হতে চাই আমার কাজের ক্ষেত্রে যা ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসাবে সম্ভব নয়। জেমস বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে মুখ খুলেছেন। বিশেষ করে উয়েফা প্রো বা এ লাইসেন্স কোচিং কোর্সে বিএএমই (ব্ল্যাক এশিয়ান মাইনরিটি এথনিক) গোষ্ঠীর লোকজন বিশেষ দেখা যায় না বলেই তাঁর অভিযোগ। তিনি পরিষ্কার বলছেন, কতজনের বিএএমই-র এই লাইসেন্স আছে, তার তথ্য উয়েফা দিতে পারে না। তিনি এসবের খোঁজ করতেও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।