অলিম্পিক আয়োজকদের সমস্যা বাড়ল টোকিওয়

টোকিও : অলিম্পিকে পাঁচ সপ্তাহ আগেও স্বাভাবিক হবে না টোকিওর জনজীবন।

করোনা সংক্রামণ এড়াতে রাজধানী টোকিও সহ দেশের ১০ বড় শহরে মেডিকেল এমারজেন্সি জারি করেছে জাপান সরকার। এবার সেই এমার্জেন্সির মেয়াদ ২০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে এখনও সময়ে গেমস আয়োজনের পক্ষে সওয়াল করছেন আয়োজকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করার পর গেমসে দর্শক থাকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

- Advertisement -

শুক্রবার জরুরি অবস্থার সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়েশিহিদে সুগা। তিনি বলেন, এমাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে করোনা সংক্রামিতের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘোষণার ফলে টোকিও অলিম্পিকের প্রস্তুতি ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশে টিকাকরণের গতি স্লথ হওয়ায় করোনাকালে অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাপানের চিকিৎসকদের একাংশ। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী গোটা দেশে আড়াই শতাংশেরও কম নাগরিকের সম্পূর্ণ টিকাকরণ হয়েছে। প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৬ শতাংশ সামান্য বেশি বাসিন্দা। বিশ্বের প্রথমসারীর দেশগুলির মধ্যে জাপানে টিকাকরণের হার সবচেয়ে স্লথ। তবে দেশের চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থকর্মীদের অর্ধেকের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে।

জরুরি অবস্থার সীমা বাড়লেও ২৩ জুলাই গেমস শুরু হবে বলে দাবি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)-র সহ সভাপতি জন কোটস। গেমস আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্তা বলেন, অলিম্পিক সময়ে শুরু হবে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমরা অ্যাথলিট ও জাপানের নাগরিকদের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করছি। তাঁর দাবি, অলিম্পিক শুরুর আগেই গেমস ভিলেজের ৮০ শতাংশের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে অলিম্পিকে আসা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চিকিৎসকরাও থাকবে। ফলে টোকিও তথা জাপানের চিকিৎসকদের চাপ কমবে। জাপানে টিকাকরণের হার বাড়লে গেমস বিরোধী প্রতিবাদও কমে যাবে বলে মনে করছেন তিনি। তবে আপাতত নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করার উপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে, স্থানীয় আয়োজক কমিটির প্রধান সেইকো হাশিমোতো জানিয়েছেন, সংক্রমণের শঙ্কা এড়াতে বিদেশি প্রতিনিধিদের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮০ হাজার থেকে কমিয়ে ৭৮ হাজার করা হয়েছে। অলিম্পিক চলাকালীন প্রতিদিন ২৩০ জন চিকিৎসক এবং ৩০০ জন নার্সের প্রয়োজন হবে। তাঁর কথায়, স্থানীয় চিকিৎসা পরিষেবার ব্যধাত না ঘটিয়ে আমরা এর ৮০ শতাংশের ব্যবস্থা করে ফেলেছি। জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হলে আমরা দর্শকদের ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসব। তাঁর ইঙ্গিত, ইনডোর এবং আউটডোর ইভেন্টে দর্শকের উপস্থিতির বিষয়ে আলাদা নীতি নেওয়া হবে। তবে প্রতিবাদের আবহে গেমস বাতিলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।