চিকিৎসক হতে চায় বিড়িশ্রমিকের ছেলে জসিম

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি : সংসার চালাতে মা বাড়িতে বিড়ি বাঁধেন। বাবা গাড়ি চালান। লকডাউনের জেরে পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এহেন পরিবারের ছেলে জসিম আহমেদ কালিয়াচক-১ ব্লকের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর (৬৬৭) পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বাঙ্গীটোলা হাইস্কুল থেকে ৬৬৬ নম্বর পেয়ে সম্ভাব্য দ্বিতীয় হয়েছে মেহেবুবা রহমান।

জসিমের ইচ্ছা সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হবে। জসিম এবার উত্তর লক্ষ্মীপুর হাইস্কুল থেকে ৬৬৭ নম্বর পেয়েছে। তার বাবা আবদুল খালেক এক সাধারণ ড্রাইভার। অন্যের গাড়ি চালানো তাঁর পেশা। মা জুলি বিবি গৃহবধূ। কিছুদিন আগে বিড়ি বাঁধার কাজ করলেও বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার জন্য সেই কাজ থেকে আপাতত দূরে রয়েছেন। খেটে খাওয়া গরিব ঘরের ছেলে জসিম তার মাধ্যমিকের ফলাফলে নিজের স্কুল ও এলাকায় যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে অল্পের জন্য রাজ্যের মেধাতালিকা থেকে ছিটকে গিয়েছে জসিম। তার প্রাপ্ত নম্বর বাংলায় ৯২, ইংরেজি ৮৫, অঙ্ক ৯৮, ভৌতবিজ্ঞান ৯৮, জীবনবিজ্ঞান ৯৮, ইতিহাস ৯৬ ও ভূগোলে ১০০ পেয়েছে। প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, জসিমের ফল যে ভালো হবে আশা করেছিলাম। বাড়িতে থেকে সে এত সুন্দর রেজাল্ট করে স্কুলের গৌরব বৃদ্ধি করেছে। ভবিষ্যতে সে আরও এগিয়ে যাবে বলেই আশা করছি। ফলাফলের পর পাড়া-প্রতিবেশী এবং অনেকেই তাকে বাড়িতে গিয়ে সংবর্ধনা জানান।

- Advertisement -

সংবর্ধনা দিতে বৃহস্পতিবার তার বাড়ি যান মালদা জেলা ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি আসিফ শেখ, ব্লক ছাত্র পরিষদ সভাপতি মেহেবুব আলম, ছাত্র পরিষদ নেতা সালমান আলি, রবিউল ইসলাম সহ আরও অনেকে। ছাত্র পরিষদ ইউনিটের তরফে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আসিফ শেখ বলেন, অভিনব রেজাল্টে আমি অত্যন্ত খুশি। কারণ, আমিও এই ব্লকের ছেলে। আমি জসিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছি। যতটুকু সহযোগিতা করার, আমি চেষ্টা করব। জসিম বলে, আমি ভবিষ্যতে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হতে চাই। করোনা পরিস্থিতিতে দেশে চিকিৎসকের যে কতো অভাব সকলেই তা বুঝতে পেরেছে। দেশের মেধাবী যুবকদের আরও বেশি বেশি করে চিকিৎসা শাস্ত্রে এগিয়ে আসা উচিত। এই মুহূর্তে দেশে চিকিৎসকের খুব অভাব। তাই আমার ইচ্ছা চিকিৎসক হওয়ার। আমি ইতিমধ্যেই সাঁতরাগাছির আলামিন মিশনে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে গিয়েছি। পড়াশোনাও শুরু করে দিয়েছি। আমার একটাই আক্ষেপ ইংরেজিতে নম্বর কম পেয়েছি। আর কিছু নম্বর পেলেই প্রথম দশে চলে আসতে পারতাম।

তার বাবা আবদুল খালেক বলেন, জসিম পড়াশোনায় ভালো। পড়াশোনার ক্ষেত্রে কখনও শিথিলতা দেখায় না। ও যত দূর পড়াশোনা করবে, আমি ততদূরই পড়াব। সকলের দোয়া এবং আশীর্বাদে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে। জসিম ছাড়াও কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন স্কুল থেকে একাধিক ছাত্রছাত্রী ভালো ফল করেছে। উত্তর লক্ষ্মীপুর হাইস্কুলের সাঈদ আনোয়ার ৬৩০ ও মুক্তারা খাতুন ৬২৩ নম্বর পেয়েছে। বাঙ্গীটোলা হাইস্কুল থেকে ৬৬৬ নম্বর পেয়ে ব্লকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় হয়েছে মেহেবুবা রাহমান। এই স্কুলের ছাত্রী নিশাত ফরদৌস ৬৬৪ নম্বর পেয়েছে ও সাহেব আক্তার পেয়েছে ৬৪৬। মেহেরপুর গঙ্গাধর হাইস্কুল থেকে শুভজিৎ পাল পেয়েছে ৬৫৪ নম্বর। মোথাবাড়ি হাইস্কুল থেকে ৬৫৬ নম্বর পেয়েছে ফারহানা আজিজ। পঞ্চনন্দপুরের সুকিয়া হাইস্কুল থেকে সর্বোচ্চ ৬৪০ নম্বর পেয়েছে আবেদা সুলতানা। নয়াবাজার হাইস্কুলে থেকে সর্বোচ্চ ৬১২ নম্বর পেয়েছে খাইরুল হাসান।