অভিষেকের সভায় ডাক না পেয়ে ক্ষুব্ধ জয়নগরের সাংসদ

241

কুলতলি: ফের ঘাসফুল শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। রবিবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুলতলির সভায় আমন্ত্রণ পেয়ে বেজায় ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন জয়নগরের তৃণমূলের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। এদিন প্রতিমাদেবী বলেন, ‘২০১৬ সালের পর থেকে তাঁকে তাঁর দলীয় কোনও সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় না। ২০১৯ সালে শুধুমাত্র একটি সভায় তাঁকে ডাকা হয়েছিল।’

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভাপতি তথা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘তাঁকে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয় না। যদিও ওই বিধানসভা কেন্দ্রটি তাঁরই সংসদীয় এলাকার মধ্যে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এদিনের সভার ব্যাপারে একটা চিঠি তাঁর সিকিউরিটির কাছে দেওয়া হয়েছিল। তাতে সাংসদ হিসাবে তাঁর নাম লেখা ছিল না।’ অভিযোগ, শওকত মোল্লা ও তাঁর দলবলের হামলার দরুণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নবগঠিত বারুইপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত বাসন্তী ও গোসাবা এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় আক্রান্ত হতে হচ্ছে আদি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের। বাসন্তী, গোসাবা ও ক্যানিং সংলগ্ন এলাকায় আদি তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে নব তৃণমূল বিশেষ করে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মী ও নেতাদের মধ্যে লাগাতার সংঘর্ষে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকের মৃত্যু ঘটেছে। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ওই সংঘর্ষ বন্ধ করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনও ফল হয়নি।

- Advertisement -

উল্লেখ্য শওকত মোল্লা ছিলেন সিপিএমে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত। শওকত মোল্লা বর্তমানে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক। অভিযোগ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় দিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত বিষ্ণুপুরে যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ছিল তাঁরও নেপথ্যে ছিলেন শওকত মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি দলবল দিয়ে থানার ভিতরে ঢুকে ওই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিয়ে গেছিলেন। ওই ঘটনার পরপরই বিষ্ণুপুর থানার ওসি তথা কয়লা ও গোরু পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বিনয় মিশ্রের দাদা অশোক মিশ্রকে ওই থানা থেকে সরিয়ে কয়লা পাচারের কেন্দ্রস্থল বলে পরিচিত বাঁকুড়ার কোতোয়ালি থানার দায়িত্বে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও প্রতিমাদেবীর অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে এদিন শওকত মোল্লার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।