ক্ষয়ে যাওয়া ভোটার কার্ডই সম্বল অসহায় জয়ন্তী রায়ের

সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি : স্বামী-পুত্র কবে মারা গিয়েছে মনে করতে পারেন না। মাথা গোঁজার জন্য নিজস্ব কিছু নেই। কখনও ভিক্ষে করে, আবার কখনও আত্মীয়দের বাড়ি ঘুরে কোনও রকমে খাবার জোগাড় করেন। কোনও দিন মন্দিরের বারান্দায়, নয়তো কোনও আত্মীয়ের বাড়িতে রাত কাটে। এভাবেই বেঁচে আছেন ধূপগুড়ির জয়ন্তী রায়। বছর সত্তরের এই বৃদ্ধার ভরসা একজোড়া কাপড় এবং ক্ষয়ে যাওয়া একটি ভোটার কার্ড। যদিও শেষ কবে ভোট দিয়েছেন, তাও মনে করতে পারেন না তিনি। এমনকি সরকারি কোনও সাহায্যও পাননি তিনি।

জয়ন্তীদেবীর স্বামী সানাই রায় পেশায় শ্রমিক ছিলেন। তিনি একসময় ধূপগুড়ি স্টেশনপাড়ায় পরিচারিকার কাজ করতেন। স্বামী-পুত্র নিয়ে তাঁর সংসার ছিল। কিন্তু একসময় পরপর স্বামী ও সন্তানের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি পরিচারিকার কাজটাও চলে যাওয়ায় এখন ঠিকানাহীন হয়ে বেঁচে রয়েছেন তিনি। ভোটার কার্ড ক্ষয়ে গেলেও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম যথেষ্টই উজ্জ্বল। সেই অনুয়ায়ী ধূপগুড়ির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও জয়ন্তীদেবীর কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই। কখনও ভিক্ষে করে, আবার কখনও দূরসম্পর্কের আত্মীয়ে বাড়িতে কাজ করে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সরকারি কোনও ভাতা বা সাহায্য মেলেনি। এমনকি কার কাছে গেলে তা পাওয়া যেতে পারে, তাও জানা নেই তাঁর। বার্ধক্যজনিত কারণে এখন অশক্ত শরীরে পরিশ্রমও করতে পারেন না। ফলে আত্মীয়রাও এখন কিছুটা এড়িয়ে চলেন তাঁকে। বয়সের কারণে এখন সেভাবে ভিক্ষাও করতে পারেন না জয়ন্তীদেবী।

- Advertisement -

দুমুঠো ভাতের আর্জি জানিয়ে জয়ন্তীদেবী বলেন, বিনে পয়সায় কেউ একবারের বেশি দুবার ভাত দেয় না। আগে লোকের বাড়িতে কাজ করে খেতাম। এখন আর সেভাবে শরীর চলে না। মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ি বলে আত্মীয়রাও এখন জায়গা দিতে ভয় পায়। কোনও রকমে রাত কাটানোর একটু জায়গা আর দুমুঠো ভাত পেলেই আমি বেঁচে থাকতে পারি। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ননীগোপাল সরকার বলেন, জয়ন্তীদেবীর নামটা জানলেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর কোনও আত্মীয়ে খোঁজও পাইনি। খোঁজ পেলে তাঁকে সাহায্য করা হবে। উপ পুরপ্রধান রাজেশকুমার সিং বলেন, জয়ন্তীদেবীর বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। এলে নিশ্চয়ই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ করব।