ময়নাগুড়ি, ১২ এপ্রিলঃ সৃষ্টিমূলক কাজের জন্য ভৌগলিক অবস্থান কোনো বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন ময়নাগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজ পড়ুয়া জয়ন্ত বসাক। গ্রামে বসেই ইউটিউব চ্যানেল খুলে উপার্জন করছেন জয়ন্ত। তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন অ্যাওয়ার্ডও জিতে নিয়েছেন জয়ন্ত। এবার তাঁর লক্ষ্য গোল্ড প্লে বাটন অ্যাওয়ার্ড জেতা। মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি যে সৃষ্টিমূলক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা যায়, তা যেন বুঝিয়ে দিচ্ছেন জয়ন্ত।

ময়নাগুড়ি ব্লকের সাপ্টিবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রান্তিক গ্রামে বাস জয়ন্তের। বাবা অনুকূল বসাক ছোটো ব্যবসায়ী। মা শেফালি বসাক গৃহবধূ। বাড়িতে যোগাযোগের জন্য বছর দশেক আগে তাঁরা একটি মোবাইল কেনেন। সেই থেকে জয়ন্তের মোবাইলে হাতেখড়ি। সবার মতোই মোবাইলে গান শোনা, গেম ও ভিডিয়ো দেখার শখ ছিল তাঁর। জয়ন্ত জানান, মোবাইল ব্যবহার করতে গিয়ে বিভিন্ন জিনিস শেখার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। তাঁর আবদারে বাবা-মা কয়েক বছর আগে একটি টাচ স্ক্রিন মোবাইল কিনে দেন। মোবাইলের প্রতি বুঁদ হয়ে থাকায় মা-বাবার বকাঝকাও শুনতে হয়েছে বহুবার। কিন্তু ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতেই জানতে জয়ন্ত জানতে পারেন ইউটিউবে ভিডিয়ো আপলোড করে টাকা উপার্জন করা যায়। বন্ধুদের বলাতে কেউই পাত্তা দেয়নি। অনেকেই বলেছিল, সাপ্টিবাড়িতে টাকা পাঠাবে ইউটিউব? তা আবার হয় নাকি? কিন্তু হাল ছাড়েননি জয়ন্ত।

তাই তিনি নিজের নামে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে বিভিন্ন ভিডিয়ো আপলোড করতে শুরু করেন। একের পর এক লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার তাঁকে উৎসাহী করে তোলে। দর্শকদের অনুরোধে তিন বছর ধরে তিনশোরও বেশি ভিডিয়ো আপলোড করেছেন তিনি। বাধা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি। এছাড়া, প্রতিমাসে কাজের ভিত্তিতে টাকাও পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে কাজ করার জন্য তাঁর সঙ্গে জুড়েছেন কিছু অনলাইন বন্ধুও। মাসতিনেক ধরে মিলি, অনুপ, সোহেল, মধুমিতা, সম্রাট ও বাবাই তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন।

প্রান্তিক গ্রামের একজন সাধারণ ছেলের এই সাফল্যে সকলেই মুগ্ধ। বাবা, মা আর এখন জয়ন্তের কাজে বাধা দেন না। তাই কাজটিকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ইতিমধ্যে ইউটিউবে শর্টফিল্ম নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন।  জয়ন্ত বলেন, মূলত দর্শকদের ভালোবাসার জন্যই কাজ করেছি। এত সাফল্য পাব আশা করিনি। আমার এই কাজে কিছু বন্ধুও সহযোগিতা করছে। তাদেরকে নিয়ে কাজটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে য়াওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও দর্শকদের ভালোবাসা পাব। জয়ন্তর মা শেফালিদেবী বলেন, ইনটারনেট বা ইউটিউব সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানি না। তবে ছেলে পুরস্কার পাওয়ার পর সকলে ভালো বলছে। তা শুনে আমারও খুব ভালো লাগছে। ছেলের কাজে আমি সবসময় সহযোগিতা করব।