পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে জে ডি হাসপাতাল

প্রাণপ্রতিম পাল, কোচবিহার : পরিকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন কোচবিহারের রাজ আমলের জে ডি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসাকর্মীরা। কোচবিহার-২ ব্লকের মহিষবাথানে রাজ আমলের এই চিকিৎসাকেন্দ্রের বেহাল দশা। হাসপাতালের আবাসনগুলির ভগ্নদশা। সমস্যায় পড়েছেন হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীরা। করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর পর থেকে হাসপাতালে রোগীরা প্রয়োজন হলেও ভর্তি হতে চাইছেন না। বৃষ্টি হলে হাসপাতালের আবাসনগুলির চাল ও ছাদ চুইয়ে জল পড়ে। হাসপাতালের ভেতরের রাস্তাও বেহাল। হাসপাতাল চত্বরে প্রায়ই সাপ দেখা যায়। আবাসিকরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছেন।

প্রায় ২৩ একর এলাকাজুড়ে রয়েছে এই হাসপাতালটি। পাঁচিল না থাকায় অবাধেই হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়ায় শুয়োর, গোরু-ছাগল। হাসপাতালের ভবনগুলি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৩ জন। ফলে পরিষেবা দিতে হিমসিম অবস্থা তাঁদের। সাফাইকর্মী ১২ জন থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ২ জন। নার্স থাকার কথা ২৮ জন। আছেন মাত্র ১১ জন। হাসপাতালের সুপার এ কে বালা বলেন, দীর্ঘদিন হাসপাতালে নানা সমস্যা রয়েছে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব কিছু জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের আমলে তৈরি হয় হাসপাতালটি। এক সময় দূরদূরান্ত থেকে এখানে যক্ষ্মা ও ডায়ারিয়া চিকিৎসা করাতে আসতেন রোগীরা। বর্তমানে টাকাগাছ, রাজারহাট, ডোডেয়ারহাট, খাগড়াবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ এখান থেকেই চিকিৎসা নেন। প্রতিদিন আউটডোরে অন্তত ৩৫০ রোগী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। ১২০টি বেড রয়েছে এই হাসপাতালে। মূলত যক্ষ্মা ও ডায়ারিয়া রোগের চিকিৎসা করা হলেও প্রাথমিক সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা এই হাসপাতালে মেলে। হাসপাতালে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকতেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ছড়ানোয় হাসপাতালে রোগীরা ভর্তি হতে চাইছেন না। ১৫ থেকে ১৬ জন রোগী ভর্তি আছেন বলে সূত্রে জানা গিয়েছে।

হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, আবাসনে ১০টি পরিবার আছে। ভগ্নপ্রায় তিনতলা আবাসন ভবনে মাত্র তিনটি পরিবার থাকে। বাকিরা টিনের চালার একতলা আবাসনে থাকেন। একতলার ঘরগুলিতে বৃষ্টির জল ঢুকে পড়ে। ব্যাং ও সাপও ঘরে ঢোকে। খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছি। প্রায় ২০ বছর আবাসনগুলি সংস্কার করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রণজিৎ ঘোষ বলেন, আমি কোচবিহারে নতুন দায়িত্ব পেয়ে কাজে যোগ দিয়েছি। ওই হাসপাতালের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নেব।