অনলাইনে ভরসা নয়, লাউডস্পিকারে ক্লাস নিচ্ছেন দুমকার শিক্ষক

161
প্রতীকী

রাঁচি: ‘শিক্ষকরাই পারেন বিশ্বের পরিবর্তন ঘটাতে’। একথা সকলেই জানেন নিজেকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকার অবদান কম কিছু নয়। তারই নিদর্শন দিলেন ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার বাঁকাঠি গ্রামে ‘আপগ্রেডেড মিডল স্কুল’ নামে একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যাম কিশোর সিং গান্ধি।

জানা গিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে সেখানে প্রতিদিন লাউডস্পিকারে দু ঘন্টা করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ওই স্কুলে ২০০-রও বেশি পড়ুয়া রয়েছে। লকডাইনে যেখানে সর্বত্র স্মার্টফোন, অনলাইনে ক্লাস চলছে সেখানে ওই স্কুলের তরফে এলাকার বিভিন্ন গাছে, দেওয়ালে লাগানো লাউডস্পিকারের কাছে বসে ক্লাস করছে পড়ুয়ারা।

- Advertisement -

এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউনের জেরে দেশের হাজার হাজার স্কুল, কলেজ বন্ধ রয়েছে। সর্বত্র অনলাইনে ক্লাস চলছে। কিন্তু আমাদের স্কুলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির ২৪৬ জন পড়ুয়া রয়েছে, যার মধ্যে ২০৪ জনেরই স্মার্টফোন নেই।’ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘ক্লাসগুলি প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়। সাতজন টিচার ও প্যারা টিচার নিয়ে ক্লাস হয়। পরে যদি পড়ুয়াদের কারও কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞাস্য থাকে তবে তাঁরা ফোনে সেটি জানাতে পারে। আমরা পরদিন তাঁর ব্যাখ্যা দিই।’ পড়ুয়ারা পড়াশোনার এই অভিনব বিষয়টিকে বেশ উপভোগ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পুনম কুমারী বলেন, ‘সেখানে ২৩১৭টি সরকারি বিদ্যালয়গুলিতেও এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করা উচিত। এতে লকডাউনের পর পড়ুয়ারা সময়মতো তাদের পাঠ্যসূচী শেষ করে নিতে পারবে।’

করোনা ভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপায় হিসেবে চলছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু এই অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে না পারার কারণে একাধিক পড়ুয়ার আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যেও এমন ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের এই স্কুলের এমন অভিনব উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন অনেকেই।