মিমির পথেই টলিউডের নায়িকা জলপাইগুড়ির জিনা

420

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : মিমি চক্রবর্তীর জায়গাটা তিনি নিতে পারবেন কি না, উত্তর দেবে সময়। পথ অনেক দূর। তবে মিমির পর আবার টলিউডে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন জলপাইগুড়ির এক তরুণী। পুরো নাম জিনা তরফদার। কেরানিপাড়ার মেয়ে ভিডিও জকি হিসেবে জিনা বেশ পরিচিত। জকির কাজ ছেড়ে অভিনয় বৃত্তে আসার পর এবার তাঁর ওয়েব সিরিজে নায়িকা হিসেবে ব্রেক। অ্যাঞ্জেলের ক্লিক প্ল্যাটফর্মে দুটি সিরিজের মুখ্য চরিত্রে তিনি। একটি চিকফ্লিক সেশন ২। এখানে খরাজ মুখোপাধ্যায় রয়েছেন জিনার বাবার ভূমিকায়। অন্য ছবিটার নাম ব্রেনওয়াশ। সেখানে জিনা আবার খরাজের গার্লফ্রেন্ডের ভূমিকায়।

মিমির পান্ডাপাড়ার বাড়ি থেকে জিনার বাড়ি বড়জোর দুই কিলোমিটার। মিমি প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতেই কলকাতা থেকে ফোনে জিনার সপাট উত্তর- মিমিদির সঙ্গে প্রথম দেখা মিউজিক চ্যানেলে ভিডিও জকি হিসেবে কাজ করার সময়। সেই সময় দুবার মিমিদির ইন্টারভিউ নিয়েছি। তখনই বলি, আমিও জলপাইগুড়ির মেয়ে। জেনেছি মিমিদিও খুব কষ্ট করে আজ এই জায়গায়। তাই মিমিদি আমার এগিয়ে চলার পথে অনুপ্রেরণা।

- Advertisement -

জিনার এগোনোও খুব কষ্ট করে। ২০১৫ সালে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজের গন্ধ তখন সবে গায়ে লেগেছে। সেই সময়ে এক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে তিলোত্তমা কোলকাতা প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন নজরে আসে জিনার। বাড়ির কাউকে না জানিয়ে সেই প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন পাঠায়। দিনকয়েকের মধ্যেই সুন্দরীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য ডাক আসে। বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেই কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। থাকেন বান্ধবীর মেসে। সেখানে থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।

য়ে ম্যাগাজিন পড়ে মডেলিংয়ে অনুপ্রাণিত হন জিনা, তার প্রচ্ছদে প্রকাশিত হয় জিনার ফুল ফ্রেম ছবি। যা নতুন মোড় নিল জিনার জীবন যুদ্ধে। ফোনে বলছিলেন, সত্যি সেদিনের সকাল আমার জীবনে স্মরণীয় একটা দিন। ম্যাগাজিনটা হাতে নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট চুপ করে বসেছিলাম। এরপর ২০১৭ সালে জনপ্রিয়তার আরেক অধ্যায় শুরু। হঠাত্ একদিন তাঁকে জনপ্রিয় মিউজিক চ্যানেল প্রস্তাব দেয় ভিডিও জকি হতে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পোজে ছবি তোলা আর ক্যামেরার সামনে অনর্গল অতিথিদের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ওপর কথা বলা তো এক কাজ নয়। সেসব না ভেবে একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে মিউজিক চ্যানেলের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান জিনা।

আড়াই বছর কাটানোর পর গত বছর লকডাউনে জলপাইগুড়িতে ছিলেন।                সেখানেই আসে অভিনয়ে প্রস্তাব। জিনার কথায়, সাহস এবং ইচ্ছাশক্তি থাকলে মানুষ যে কোনও কঠিন কাজ অনায়াসে করতে পারে। আমি সেটাতেই বিশ্বাসী। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। সাহস নিয়মিত জুগিয়েছেন আমার বাবা-মা। অনেক ছেলেমেয়ে যখন ফেসবুকে বা মেসেঞ্জারে আমাকে তাদের অনুপ্রেরণার কথা বলে, তখন সত্যি খুব ভালো লাগে। সেই সময় আমাকে কেরিয়ার গাইড করার তেমন কেউ ছিল না।

জিনার বাবা অসীম তরফদার জীবনবিমা সংস্থার প্রাক্তন আধিকারিক। মা বীণা গৃহবধূ। বাড়িতে বসে অসীমবাবুর মন্তব্য, ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান এবং অভিনয়ে প্রতি জিনার খুব আগ্রহ ছিল। জন্ম থেকে এই প্রতিভাটা ওর ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। নিজের চেষ্টায় জিনা সফল।

বাবার কথা শেষ না হতেই মা বলে উঠলেন, মেয়ে যা করেছে পুরোটাই নিজের চেষ্টাতে। আমরা শুধু ওকে সাহস জুগিয়েছি। ও বাংলা অনার্স নিয়ে বিএ পাশ করেছে ঠিকই, কিন্তু কোনওদিন বই নিয়ে পড়তে বসতে দেখিনি। আমি পড়তাম, ও শুনত। আর পরদিন গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসত।

কর্মসূত্রে এখন জিনা কলকাতার মেয়ে হলেও পুজোর গন্ধ আজও তাঁকে টেনে আনে জলপাইগুড়ি। যার ব্যতিক্রম হবে না এই পুজোতেও। কদমতলা দুর্গাবাড়ির পুজোমণ্ডপে স্কুল-কলেজের জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা আজও বছরভরের অক্সিজেন জোগায় তাঁকে।