ময়নাগুড়ির জোড়া জরদা সেতু উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা

1476

বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: উল্টে যেতে পারে ময়নাগুড়ির জোড়া জরদা সেতু। এমনটাই আশঙ্কা খোদ রাজ‍্যের পূর্ত দপ্তরের। নতুন জরদা সেতুর দুটি এবং পুরোনো জরদা সেতুর একটি পিলারের গোড়ায় জলের স্রোতে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পিলারের গোড়ার মাটি পুরোপুরি সরে গিয়েছে। বিষয়টি অবশ্য পূর্ত দপ্তরের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই পূর্ত দপ্তর পিলার প্রোটেকশন ওয়ার্কের জন্য ৯১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করেছে।

ময়নাগুড়ির লাইফ লাইন জরদা নদী। ময়নাগুড়ি বাজারের উপর রয়েছে জোড়া জরদা সেতু। ময়নাগুড়ি- ধূপগুড়ি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এটাই। অত‍্যন্ত ব‍্যস্ততম এই সড়কে সারাদিনে কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। যাতায়াত করে পণ‍্যবাহী যানও। জরদা সেতুটি বহু বছর আগের। ব্রিটিশ আমলে তৈরি। সেতুটি সেবকের করোনেশন সেতুর আদলে তৈরি করা হয়েছে। এই সেতুর একেবারে মাঝখানের পিলারের গোড়ায় বিরাট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর স্রোত এসে প্রথমে ধাক্কা খাচ্ছে সেতুর পিলারে। ওই সেতুটি কম চওড়া। ময়নাগুড়ির জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় জরদা সেতু নির্মাণের দাবি ওঠে বাম আমলেই। তখন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী আরএসপির ক্ষিতি গোস্বামী।

- Advertisement -

আশির দশকে ময়নাগুড়িতে দ্বিতীয় জরদা সেতুর শিলান্যাস হয়। দ্বিতীয় জরদা সেতুর উদ্বোধন হয় ১৯৯৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। এই সেতুটি অনেকটাই চওড়া। খরস্রোতা জরদা নদীর জলের তোড়ে নতুন জরদা সেতুর দুটি পিলারের গোড়ার মাটি ক্ষয়ে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পূর্ত দপ্তরের অনুমান, পাশাপাশি দুটি সেতুর তিনটি পিলারই এখন শূন্যে ঝুলছে। আর তার ওপর দিয়েই চলছে যাত্রী ও পণ‍্যবাহী যানবাহন। প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। পূর্ত দপ্তরের অ্যাসিস্ট‍্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার জানান, যে কোনও সময় উল্টে যেতে পারে জোড়া জরদা সেতু। পিলারের নিচের মাটি ক্ষয়ে গিয়েছে। প্রোটেকশন ওয়ার্কের জন্য ৯১ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে।