আর ডাকে না কেউ, স্ট্যাচু সেজে মনোরঞ্জনে নারাজ জয়দেব

147

চ্যাংরাবান্ধা: একটা সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্ট্যাচু সেজে মানুষকে আনন্দ দিত মেখলিগঞ্জ ব্লকের চ্যাংরাবান্ধা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিবেকানন্দপাড়া এলাকার বাসিন্দা জয়দেব চন্দ ওরফে চিকুদা। বিশেষ করে দুর্গোৎসব ও কালী পূজা আসার অনেক আগে থেকে এনিয়ে চিকুদার মনে আনন্দ বেড়ে যেত অনেকগুণ। ব্যস্ততাও থাকত তুঙ্গে। মানুষকে আনন্দ দিলেও নিজের মনে অবশ্য আনন্দ থাকত না কখনই তবুও অন্যকে আনন্দ দিয়েই তিনি নিজে খুশি থাকার চেষ্টা করতেন সর্বদা।

তবে এখন মনের দুঃখে স্ট্যাচু সাজতে উৎসাহ হারাচ্ছেন তিনি। তার কথায় এমনিতেই এখন ধৈর্য সহকারে এসব দেখতে মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। কারণ অধিকাংশের হাতে সময়ের বড্ড অভাব। বর্তমান প্রজন্মেরও একটা বড় অংশের রুচিতেও পরিবর্তন এসেছে। তাই স্ট্যাচু সাজার জন্য আয়োজকদের তরফে ডাক পড়া অনেকটাই কমে গিয়েছে। তার উপর গত দু’বছরের করোনা পরিস্থিতি অনেক কিছু বদলে দিয়েছে। করোনার কারণে গত বছরও দুর্গোৎসব ও কালিপুজোয় স্ট্যাচু সাজার জন্য ডাক আসেনি। এবারও ডাক পড়ার তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই মনের কষ্টে আর স্ট্যাচু সাজার প্রতি ঝোঁক কমেছে জয়দেবের।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘স্ট্যাচু সাজলে একটা সময় আমাকে ঘিরে প্রচুর মানুষ দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষা করে দেখতেন। খুব একটা রোজগার হত না। তবে পুজোর সময় যা আয় হত সেটা দিয়ে পুজো ভালভাবেই কেটে যেত। তাই নিজের মনে কষ্ট থাকলেও অন্যকে আনন্দ দিতে খুব ভাল লাগত। মানুষকে আনন্দ দিতে এখনও চেষ্টার কোনওরকম ত্রুটি রাখতে না চাইলেও আগের মত ডাক পড়ছে না। তাই মনে বড় কষ্ট হয়। আর মনের কষ্টেই মনে হয় স্ট্যাচু সাজা বন্ধ করে দিতে হবে।’