সীমান্তের রাস্তায় গাছ লাগিয়ে নজির গাছদাদার

205

চ্যাংরাবান্ধা : কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে ফোর লেন রাস্তা তৈরি করেছে এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই রাস্তা তৈরির জেরে রাস্তার দুধারের প্রচুর বড় বড় গাছ কাটা পড়েছে। ফলে গত তিন বছরে একপ্রকার বৃক্ষহীন অবস্থা হয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের ব্যস্ততম সার্ক রোডের দুপাশ এবং বিস্তীর্ণ এলাকার অনেকটা অংশের। এই অবস্থায় নিজের উদ্যোগে সার্ক রোড এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে মাঝে থাকা জায়গায় প্রায় ১০০টি দেবদারু গাছ লাগিয়ে সবুজায়নের লক্ষ্য নিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা জয়কুমার গুপ্তা। তবে গাছ লাগিয়ে দায় সারা নয়, নিয়মিত গাছের পরিচর্যাও করছেন তিনি। প্রতিদিন গাছের গোড়ায় জল দেওয়ার জন্য তিনি কর্মীও নিয়োগ করেছেন। কর্মীরা দুবেলা দূর থেকে জল বয়ে এনে গাছের গোড়ায় দিচ্ছেন। গবাদি প্রাণীর থেকে গাছ বাঁচানোর জন্য লোহার খাঁচা বসিয়েছেন তিনি। এলাকাকে সবুজ করার তাঁর চেষ্টা দেখে মুগ্ধ সীমান্তবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দিনের পর দিন গাছ উধাও হয়ে যাওয়ায় ধুলোবালির জন্য এলাকায় অনেক সময় বাড়িতে টেকাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে গাছ কেটে ফেললেও গাছ লাগাতে তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় একাধিক গাছ লাগিয়ে জয়কুমারবাবু এলাকায় নজির রাখছেন। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে জয়কুমারবাবু গাছ লাগিয়ে সেগুলির পরিচর্যা করে বড় করে তোলার চেষ্টা করে চলেছেন। তাই গাছদাদা হিসেবেও পরিচিতি হতে শুরু করেছে তাঁর। বৃক্ষরোপণের ফলে এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে বলেই অনেকে মনে করছেন।

- Advertisement -

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চ্যাংরাবান্ধা বাইপাস থেকে ভিআইপি মোড় হয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকা অবধি রাস্তার ধারে গাছ খুঁজে পাওয়া কার্যত মুশকিল। অথচ একটা সময় অনেকটাই গাছগাছালিতে ভর্তি ছিল এলাকা। গাছ না থাকার কারণে নানা প্রকার সমস্যা বাড়ছে বলেও অনেকের অভিযোগ। শুকনো মরশুমে ধুলোর চাদরে মুড়ে যাচ্ছে সীমান্তের এই এলাকা। এ অবস্থায় নিজেদের স্বার্থেই গাছ লাগাতে সকলেরই জয়কুমারবাবুর মতো এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। জয়কুমারবাবু বলেন, গাছের যত্নটা বর্তমানে তাঁর নেশায় পরিণত হয়েছে। গাছকে তিনি ছোটবেলা থেকে ভালবাসলেও গাছ লাগানোর জন্য তাঁর নিজস্ব জায়গার অভাব রয়েছে। গাছের উপকারের কথা অজানা নয় কারও। এই পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।  জয়কুমারবাবুর এই উদ্যোগের বিষয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ব্লক প্রশাসনের এক অধিকারিক অবশ্য জানিয়েছেন, সবুজায়নের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।