নন্দীগ্রাম মামলা: শুনানির পর রায়দান স্থগিত

152
সংগৃহীত ছবি

কলকাতা: নন্দীগ্রামের ভোটের ফল পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে বিচারপতির এজলাস বদল হবে কি না, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার কোনও রায় দিল না কলকাতা হাইকোর্টের কৌশিক চন্দের সিঙ্গল বেঞ্চ। শুনানি শেষে রায়দানও স্থগিত রাখলেন বিচারপতি।

নন্দীগ্রামের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ভোটে হেরে যাওয়ার প্রেক্ষিতে গণনায় কারচুপির অভিযোগে এই মামলা হয় হাইকোর্টে। মমতা পুনর্গণনার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। কৌশিক চন্দের এজলাসে মামলা ওঠার পর বিতর্ক শুরু হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিচারপতি কৌশিক চন্দ আইনজীবী থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগ ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার রাতে স্বয়ং বিচারপতির কাছে আবেদন জানান, যাতে তিনি এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তারপরেও বৃহস্পতিবার বিচারপতি হিসাবে কৌশিক চন্দই হাজির ছিলেন।

- Advertisement -

এদিন কৌশিক চন্দের এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হয়। যেহেতু এই মামলায় আবেদনকারীকে হাজির থাকতে হয়, তাই ভার্চুয়ালি এদিন হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে এদিন মামলার সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিংভি। এদিন শুনানি হলেও বিচারপতি কোনও রায় দেননি। যদিও তিনি বলেছেন, ‘আমার এই মামলা শুনতে কোনও আপত্তি নেই।’ তবে এদিন অভিষেক মনু সিংভি আদালতে এই বিচারপতির সঙ্গে বিজেপি যোগের একাধিক প্রমাণ সামনে এনে মামলা স্থানান্তরের পক্ষে সওয়াল করেন।

এদিন শুরুতেই অভিষেক মনু সিংভি আদালতে সওয়াল করে বলেন, ’মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও কেন নন্দীগ্রাম মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন না বিচারপতি?’ তখনই বিচারপতি বলেন, ’এই মামলা শুনতে আমার কোনও আপত্তি নেই।’ এদিন অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করতে গিয়ে বিচারপতি কৌশিক চন্দের সঙ্গে বিজেপি যোগ প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ’পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখাই সমীচীন।’ বিচারপতির কৌশিক চন্দ এই সওয়াল শুনে মুচকি হেসে বলেন, ’কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে মামলা করলে তাঁকে সেই দলের সমর্থক হতে হবে এমনটা আমার জানা নেই।’

এদিন শুনানির সময় বিচারপতি অভিষেক মনু সিংভিকে বলেন, ’আপনারা প্রশাসনিকভাবে প্রধান বিচারপতির কাছে বিচারপতি বদলের আবেদন করেছেন। সেই আবেদন নিয়ে প্রধান বিচারপতি এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। এখন আপনারা আমার কাছে আবেদন করেছেন। শুনানি করতে আমার কোনও আপত্তি নেই। তাহলে আপনাদের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন প্রত্যাহার করতে হবে। দুটি আবেদন একসঙ্গে চলতে পারে না।’ এর উত্তরে অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ’কেন এই আদালতে আবেদনকারী মামলা চাইছেন না, তার কারণ আছে। আইনজীবী থাকাকালীন বিজেপির বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আপনি সওয়াল করেছিলেন। ইমাম ভাতা, বিজেপির রথয়াত্রা, কলকাতায় আরএসএসের অনুষ্ঠান করতে না দেওয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বহু মামলায় সওয়াল করেছিলেন। তাই আবেদনকারী চাইছেন, অন্য এজলাসে মামলার শুনানি হোক।’ এই শুনে বিচারপতি বলেন, ’ওকালতি অনেক মামলায় করতে হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষে মামলা করলেই যে তাঁকে সেই রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক হতে হবে, তা আমার জানা নেই।’ শুনানি শেষে মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি।