কলকাতা, ১৭ জুনঃ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসের পর সাতদিন ধরে চলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অচলাবস্থার অবশেষে পরিসমাপ্তি হল।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে ১২ দফা দাবি নিয়ে নবান্নে উপস্থিত হয়েছিলেন ৩১ সদস্যের জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দল। যার মূল কথা ছিল নিরাপত্তা বাড়ানো। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পরিসেবা আরও ভালোভাবে পৌঁছে দেওয়া। ১২ দফা দাবির প্রায় প্রত্যেকটিই মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসকদের তরফে বক্তব্য রাখেন অর্চিষ্মান ভট্টাচার্য। দাবি ছিল, আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে তা তুলে নিতে হবে প্রশাসনকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আন্দোলনরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনওরকম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া বা মামলা করা হয়নি। পাশাপাশি এনআরএস-এর ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের প্রস্তাব মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে কোলাপসিবল গেট বসানো, রোগীদের জন্য অভিযোগকেন্দ্র রাখা, সিসিটিভি লাগানো, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ডাক্তারদের জন্য বিশেষ নম্বর চালু করা সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, স্বরাষ্ট্রসচিব, মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব ছাড়াও ডিজি বীরেন্দ্র, পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র ডাক্তার সুকুমার মুখোপাধ্যায় ও অভিজিৎ চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে স্বভাবতই খুশি জুনিয়র ডাক্তাররাও। বৈঠক ফলপ্রসূ হয়। এনআরএস-এ পৌঁছে বাকি ঘোষণা করা হবে বলে জানান প্রতিনিধিরা। সেইমতো এদিন এনআরএস-এ পৌঁছে সরকারিভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করা হল।