পুজোর মুখে সুখবর, রায়গঞ্জে গড়ে উঠছে পাটশিল্প

293

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: ক্ষমতায় এসেই রাজ্যে শিল্পের হালহকিকত বদলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোকে পাখির চোখ করে গিয়েছেন বিদেশ সফরে। সর্বত্রই শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান ছিল, রাজ্যে বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। বাংলায় লগ্নী করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে এই নিয়ে বারবার বিরোধীদের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।

রাজ্যে যখন একের পর এক পাটশিল্প কাঁচামালের অভাব ও শ্রমিক অসন্তোষের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেই সময় রায়গঞ্জের বিশিষ্ট এক শিল্পপতি বাংলাশ্রী প্রকল্পে বৃহদাকার পাটশিল্প গড়তে এগিয়ে এসেছেন। রায়গঞ্জ ব্লকের বিরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের শাকধুয়া গ্রামে আগামী ছয় মাসের মধ্যে গড়ে উঠবে এই শিল্প। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে শিল্পটি হবে। স্থানীয় যুবক সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে নিজের গ্রামে এই শিল্প গড়ে তুলবেন শিল্পপতি সুব্রত সরকার।

- Advertisement -

বেশ কয়েক বছর আগে ওই গ্রামেই বড় আকারের দুটি চালের মিল করেছেন সুব্রতবাবু। গ্রামের বহু মানুষের রুটি রুজির ব্যবস্থা করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি ১০০ শতাংশ খাদ্যশস্য এবং ২০ শতাংশ চিনি প্যাকেজিংয়ের ক্ষেত্রে পাটের ব্যাগ ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে। ১৯৮৭ সালের জুট প্যাকেজিং মেটিরিয়াল (জেপিএম) আইনের আওতায় সরকার বাধ্যতামূলকভাবে প্যাকেজিং নীতির পরিধি বৃদ্ধি করেছে। কয়েক লক্ষ চাষি পরিবার পাট চাষের ওপর নির্ভরশীল। তাই পাট ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পের উন্নয়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে প্রয়াস চালাচ্ছে। কাঁচা পাটের গুণমান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পাটশিল্প ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকরণ এবং পাটজাত পণ্যের চাহিদা ও সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষে এই প্রয়াস চালানো হচ্ছে। পাটশিল্প মূলত সরকারি ক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল। সরকার প্রত্যেক বছর খাদ্যশস্য প্যাকেজিংয়ের জন্য ৭,৫০০ কোটি টাকা মূল্যের পাটের ব্যাগ কিনে থাকে। পাটশিল্প ক্ষেত্রের মূল চাহিদা বজায় রাখতে এবং এইক্ষেত্রের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিক ও কৃষকদের জীবিকা নির্বাহের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সার্টিফায়েড বীজ বিতরণের ফলে পাটের উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে এই জেলায়। একইসঙ্গে কৃষকদের আয় বেড়েছে।

শিল্পপতি সুব্রতবাবু জানান, তিনি আগে পাটের ব্যবসা করতেন। তাঁদের এখানকার উৎপাদিত পাটের বড় অংশই কলকাতায় যেত। কলকাতায় পাটের সামগ্রী উৎপাদিত হয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। আবার কিছু পাটের সুতো এদিকে আসে। এই জেলায় প্রচুর পরিমানে পাট উৎপাদন হয়। শ্রমিকের অভাবও নেই। তাই সেদিকে তাকিয়ে রায়গঞ্জে মাঝারি আকারে একটি পাট শিল্প করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, তাঁর দুটি চাল মিল রয়েছে। প্রচুর শ্রমিক কাজ করেন সেখানে। এখানে পাট শিল্প গড়ে উঠলে বহু শ্রমিক পাবেন তিনি। কাঁচামালের অভাব হবে না। পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহারের ফলে যে দূষণ ছড়াচ্ছে তাতে পাটের জিনিসের ব্যবহার বাড়লে দুষণ রোধ করা সম্ভব হবে। এখানে সুতো থেকে চট, কার্পেট, বস্তা, ব্যাগ সহ যাবতীয় জিনিস তৈরি হবে। রাজ্য সরকারের বাংলাশ্রী প্রকল্পে এই কাজ শুরু করছেন তিনি। এখানে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করবেন। এছাড়া ম্যানেজার, সুপারভাইজার, মেকানিক মিলিয়ে আরও ১০০ জন কাজ করবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথমদিন থেকেই ৮০০ জন কাজ করবেন। তাঁর বক্তব্য, এখানকার উৎপাদিত সামগ্রী পঞ্জাব, রাজস্থান, কলকাতা, হরিয়ানায় যাবে। বিদেশেও যাবে। এই প্রত্যন্ত এলাকায় কেন এই শিল্প বেছে নিলেন? সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি ছোট থেকেই চাল, গম, পাটের ব্যবসা করতেন। এই শিল্প স্থাপন করতে জেলা শিল্প অধিকর্তা সুনীল সরকার এবং পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুণ্ডু সাহায্য করছেন। জেলা শিল্প অধিকর্তা সুনীল সরকার জানান, সুব্রতবাবু জেলায় পাটশিল্প করার জন্য প্রায় দু’বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সফল হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার বাংলাশ্রী প্রকল্পে শিল্প গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পশ্চিম দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শংকর কুণ্ডু জানান, এমন শিল্প হলে গ্রামের ছেলেদের কর্মসংস্থান হবে। সুব্রতবাবুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হবে।