ধূসর স্মৃতি বয়ে চলেছে পাঁচভায়া গ্রামের কাছারিবাড়ি

175

হেমতাবাদ: ব্রিটিশ শাসনকালে অধুনা বাংলাদেশের রংপুরের জমিদার কুমার ভৈরবলাল বাহাদুর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য পাঁচভায়া গ্রামে কাছারিবাড়ি তৈরি করেন। সেই বাড়িকে ঘিরে এলাকায় হিন্দু-মুসলমানদের বসতি গড়ে ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক স্মৃতি রয়েছে এখানে। হিন্দু-মুসলিমদের মৈত্রীর কথা ভেবে শিবমন্দির ও পীরের দরগা নির্মাণ করেন জমিদার। শিবমন্দির নদীগর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। ভাটোলের তাজপুরে নির্মিত পীরের দরগাও ধ্বংসের পথে। তবে কাছারিবাড়ির ভিতরে পীরের মাজারকে প্রায় ৫০ বছর ধরে আগলে রেখেছেন জমিদার ভৈরবীলালের বিশ্বস্ত প্রহরী লক্ষ্মীনারায়ণ ঝাঁয়ের বংশধর স্বর্গীয় সুগনী ঝাঁয়ের পরিবার-পরিজনরা। এখনও শিবলিঙ্গ পুজোর পাশাপাশি পীরের মাজারে নিয়ম করে সন্ধ্যা প্রদীপ দেন। শুধু তাই নয় সমস্ত গ্রামই প্রতিদিন নিয়ম করে পুজো দেন শিব মন্দির এবং পীরের দরগায়।

ধূসর স্মৃতি বয়ে চলেছে পাঁচভায়া গ্রামের কাছারিবাড়ি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

- Advertisement -

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই পাঁচভায়া গ্রাম। ব্রিটিশ শাসনকালে বিপ্লবীরা পাঁচভায়া গ্রামের কাছারিবাড়িতে আত্মগোপন করতেন। জমিদার কুমার ভৈরবলাল বাহাদুর বিপ্লবীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন। তিনি বিপ্লবীদের অর্থ জুগিয়েছিলেন। অনেক সময় ব্রিটিশদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জমিদার বিপ্লবীদের লুকিয়ে রাখতেন কাছারির অন্দরে। ছিলেন বিনয়, বাদল, দীনেশও। এখানেই তাঁরা লুকিয়ে ছিলেন। আবার কখনও বিপ্লবীদের পালানোর পথ করে দিতেন। ইতিহাস গবেষক আনন্দগোপাল ঘোষ জানিয়েছেন, রংপুরের তাজহাটের জমিদার মুন্নালাল রায়ের পৌত্র ধনপতি রায় জমিদারি সম্প্রসারণের প্রয়োজনে রায়গঞ্জের জগদীশপুরের পাঁচভায়াতে কাছারি নির্মাণ করেন। পাঞ্জাবি বংশের এই জমিদারের কোনও সন্তান না থাকায় মামা গিরিলাল রায়কে কাছারির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। গিরিলালের কোনও সন্তান ছিল না। তিনি গোবিন্দলাল নামে এক নাবালককে দত্তক নেন। পরে জমিদার ভৈরবলাল সম্পত্তির সম্প্রসারণ ঘটান। পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে শামিল হন তিনি। উত্তরবঙ্গ সাহিত্য পরিষদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন ভৈরবলাল। পাঁচভায়া হাইস্কুলের অদূরে কাছারি বাড়িতে পাঁচ দশক থেকে আছেন স্বর্গীয় সুগনী ঝাঁয়ের পরিবারের সদস্যরা। সুগনীদেবীর তিন ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে কাছারিবাড়িতেই। সুগনী দেবীর পুত্রবধূর কথায়, রোজ সকাল, সন্ধ্যা মন্দিরের পুজো এবং পীরের মাজার দেখভাল করছেন তিনি। ইদের সময় মুসলিম পরিবারের লোকেরা মাজারে নমাজ পড়তে আসেন। আবার হিন্দু পরিবারের লোকেরা পুজো দিতে আসেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিধন্য কাছারিবাড়ি এখন অবহেলায় ধুঁকছে। জমিদারের রাজত্বে দুর্গাপুজোর সময় ঝলমল করত বাড়ির প্রাঙ্গণ। নদী পেরিয়ে বিহার থেকেও প্রচুর দর্শনার্থী আসতেন। স্থানীয় প্রবীনদের অনেকেই জানিয়েছেন, কাছারি বাড়ি ঘিরে থাকা আমবাগান স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক ঘটনার সাক্ষী। জমিদারের মৃত্যুর পর ইতিহাসসমৃদ্ধ কাছারিবাড়িও গৌরব হারিয়েছে। নেই কর্মব্যস্ততার ছবি। এখন শুধুই অতীতের ধূসর স্মৃতি।