ফের পর্যটনে মন দিতে চায় পাহাড়ি গ্রাম কাফের

333

বিদেশ বসু,  মালবাজার : গ্রামের নাম কাফের। পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে থাকা এ যেন এক স্বর্গরাজ্য। ভ্রমণপিপাসুদের ছবির মতো সুন্দর এই গ্রামটির খোঁজ পেতে বেশি দেরি হয়নি। ধীরে ধীরে কাফের পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ও লকডাউনের জেরে পর্যটনে ছেদ পড়ে। সম্প্রতি করোনামুক্ত এই গ্রামের বাসিন্দারা নতুনভাবে পর্যটন শুরু করতে চিন্তাভাবনা করছেন।

কালিম্পং জেলার বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র লোলেগাঁও থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে কাফের। গ্রামে যাওয়ার পথে এক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচুর গাছপালা পড়ে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাছাড়া দেখভালের অভাবে পাহাড়ি রাস্তার অবস্থাও সঙিন হয়ে পড়েছিল। তবে এখন লোলেগাঁও যাওয়ার রাস্তা আগের তুলনায় অনেক ভালো। কাফের যাওয়ার রাস্তাও অনুকূল। পাহাড়ি কাফের থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায়। পাশেই সবুজ বনাঞ্চল আছে। নানা রঙের ফুলের শোভায় সূর্য ওঠা এবং ডোবা দেখার জন্য পয়েন্ট রয়েছে। গ্রামের ৩১টি পরিবার। তারা মূলত কৃষিকাজ করে। একশো শতাংশ জৈবিক পদ্ধতিতেই চাষ হয়। তবে এইসব পরিবারও এখন পর্যটনের সঙ্গে জুড়তে চাইছে। গ্রামের যুবক সুনীল তামাং হোমস্টে তৈরি করে পথ দেখিয়েছেন। তাঁর দাদা সঞ্চবীর তামাংয়েও হোমস্টে রয়েছে। সুনীলবাবু বলেন, লকডাউন পর্বের আগে পর্যটক সমাগম ভালোই হচ্ছিল। এখন বর্ষা। তা সত্ত্বেও অনেক বুকিং ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতিতে বুকিং বাতিল হয়েছে। সুনীলবাবু বলেন, এই সময়ে কয়েকজন আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, আমরা আপাতত ধীরগতিতেই এগোতে চাইছি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পুরোপুরি সামলে পর্যটন শুরু করতে চাই। আশা করছি অক্টোবর থেকে পর্যটন শুরু করা যাবে। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড টুরিজমের (অ্যাক্ট) কর্মকর্তা ওসান লেপচা বলেন, আমরা পর্যটন উদ্যোগীদের সঙ্গে কথা বলছি। প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা চলছে। আশা করছি প্রশাসনিক সহযোগিতায় পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়াবে। পর্যটন উদ্যোগী রাজেন প্রধানের কথায়, পর্যটনকে কেন্দ্র করেই কাফেরের মতো জায়গাগুলি সকলের নজরে এসেছে। আশা করছি এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফের পর্যটন শুরু হবে।

- Advertisement -