ভোটের প্রচারে বিজেপি এলে ঝাঁটাপেটা করার নিদান কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

253

বর্ধমান: ভোটের প্রচারে আসা বিজেপির লোকজনকে ঝাঁটাপেটা করে এলাকা ছাড়া করার নিদান দিলেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও মকুল রায়ের সভার পাল্টা বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের সভা হয় পূর্ব বর্ধমানের কালনা বাসস্ট্যান্ডে। সেই সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘চোর, জোচ্চর, ছেঁচড়দের ভোট দেবেন না। যদি ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা লোকজন প্রচারে আসে তাহলে মহিলারা ও বঙ্গজননী মেয়েরা ঝাঁটা পেটা করে ওদের এলাকা থেকে বের করে দেবেন।‘ তৃণমূল সাংসদের এমন মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বও।

কেন্দ্রের সরকার ও তৃণমূল থেকে যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার এদিন তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এলআইসি ও রেলকেও বেচে দিয়েছে। যেকোনো দিন আবার শুনব গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অন সেল। সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী বর্ধমান পূর্বের সাংসদ সুনীল মণ্ডলের নাম না করে তাঁকে কটাক্ষ করে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।‘ কাকলিদেবী বলেন, ‘সাংসদ হওয়ার সুবাদে দিল্লিতে পাওয়া থাকার ঘরের সাথে যে রান্নাঘর, গ্যারেজ রয়েছে তাও উনি ভাড়া দিয়েছেন।‘ এর থেকে বড় লজ্জার আরকি হতে পারে বলে কাকলিদেবী মন্তব্য করেছেন।

- Advertisement -

জনসভায় অংশ নেওয়া অপর বক্তা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি তথা অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজীব, শুভেন্দুবাবু আমাদের থেকেও বড় অভিনেতা। প্রযোজকদের বলে ওদেরকে সিনেমায় চান্স দেওয়ার কথা ভাবছি। বিজেপিতে গিয়ে ওনারা অভিনয়টা দারুন শুরু করেছেন।‘ বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে কটাক্ষ করে সোহম বলেন, ‘রথের দড়ি ধরে মারো টান বিজেপি হবে খানখান।‘ কালনা বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সোহম চক্রবর্তী ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ‍্য সম্পাদক জয়া দত্ত, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপাত্র দেবু টুডু সহ জেলা অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, কাকালি ঘোষ দস্তিদারের ঝাঁটা পেটা করার নিদান দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপির কাটোয়া সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘কাকলিদেবী বোধহও এবারের বিধানসভা ভোটের সঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটকে গুলিয়ে ফেলে ছেন। ছাপ্পা ভোট দিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে জেতা তৃণমূলের নেতারা এবারের বিধানসভা ভোটে আর কল্কে পাবে না। ঝাঁটা পেটা করলে বিজেপিকর্মীরাও পালটা দাওয়াই দিয়ে দেবে।‘