কালবৈশাখীতে পন্ড কুমারগ্রাম ব্লকের একাধিক খুচরো বাজার, বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা

221

কুমারগ্রাম : কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লণ্ডভণ্ড কুমারগ্রাম ব্লকের একাধিক খুচরো বাজার। বুধবার সকালে ঝড়ের দাপটে পন্ড হয়ে যায় কামাখ্যাগুড়ি, বারবিশা, খোয়ারডাঙ্গা, কুমারগ্রাম, মারাখাতা, কাঞ্ছিবাজার সহ বিভিন্ন প্রান্তের দিন বাজারগুলি। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন কয়েক হাজার ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী। প্রচন্ড গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে৷ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাঠে, ঘাটে, রাস্তার পাশে পসরা সাজিয়ে বসা অধিকাংশ অস্থায়ী দোকানের ত্রিপল এবং প্লাস্টিকের আচ্ছাদন উড়ে যায়। ঘটনার জেরে ভীতসন্ত্রস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। এমনই ছবি দেখা গেছে কুমারগ্রাম ব্লকজুড়ে।

আর পাঁচটা দিনের মতো বুধবার সকাল থেকেই খুচরো বাজার বসেছিল কুমারগ্রাম ব্লকের বিভিন্ন জায়গায়। খুচরো দিন বাজা গুলিতে সকাল ১০টার দিকে কেনাকাটা ছিল তুঙ্গে৷ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছিল প্রতিটি দিন বাজার। কিন্তু আচমকাই ঘন কালো মেঘের আড়ালে অন্ধকার নেমে আসে চারদিকে। শুরু হয় কালবৈশাখীর তান্ডব। রকমারি শাকসবজির পসরা সাজিয়ে বসা দোকানীদের মাথার উপরে টাঙানো প্লাস্টিক, ত্রিপল দমকা হাওয়ায় উড়ে যায়। কালবৈশাখীর দাপটে পন্ড হয়ে যায় খুচরো বাজার। ঘটনার জেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

- Advertisement -

কামাখ্যাগুড়ি হাইস্কুলের মাঠে বসা খুচরো বাজারের সবজি বিক্রেতা লিটন সাহা বলেন, নির্দিষ্ট দূরত্বে কমবেশী প্রায় ২০০ সবজির দোকান বসেছিল। দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। সব মিলিয়ে অন্তত ১০টন সবজি বিক্রি হয়। এদিনের ঝড়ে অধিকাংশ দোকানের সবজি বিক্রি হয়নি। একে লকডাউন। দুশ্চিন্তার শেষ নেই। উপরন্তু কালবৈশাখী ঝড়ের জন্য ব্যবসার বড় ক্ষতি হল। অবিক্রিত কাচা শাকসবজি মজুত রাখার সঠিক ব্যবস্থাও নেই। সবই পচে যাবে। এদিকে চারদিক অন্ধকার করে ঝড়বৃষ্টি নেমে আসায় ক্রেতাদের অনেকেই বাজারের শূন্য থলে হাতে বাড়ি ফিরে যান।

কালবৈশাখীতে পন্ড কুমারগ্রাম ব্লকের একাধিক খুচরো বাজার, বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতারা| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

আরেক ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী তপন আচার্য্য বলেন, আচমকা ঝড় শুরু হতেই মাঠজুড়ে হুলুস্থুল লেগে যায়। অনেকে পা পিছলে পড়েও যান। ঝড়ের হাত থেকে রেহাই পেতে শত চেষ্টা করেও দোকান গুটিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে দমকা হাওয়ায় প্লাস্টিক উড়ে যায়। সমস্ত কাচা শাকসবজি আনাজপাতি ভিজে যায়। নিমেষে গোটা বাজার ফাঁকা হয়ে যায়। ক্রেতা না থাকায় এসব কাঁচা খাদ্যসামগ্রী কার কাছে বিক্রি করব, কীভাবে ক্ষতি সামাল দেব ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছি না। একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে কুমারগ্রামের সাপ্তাহিক হাটেও। ঝড়ে বিধস্ত দিনবাজারগুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে আনাজপাতি। ঘটনার জেরে কুমারগ্রাম ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।