রক্ষাকালী পুজো উপলক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি বংশীহারিতে

92

বুনিয়াদপুর: রক্ষাকালী পুজো উপলক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু হল বংশীহারিতে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বংশীহারি গাংগুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাগদুয়ারে এই পুজো হয়। ১৯১৬ সাল থেকে রাসপূর্ণিমার পরের শুক্রবার রক্ষাকালী পুজো হয়ে আসছে। পাশাপাশি বালুরঘাট থানার অধীন বোল্লাকালী পুজোর খ্যাতি উত্তরবঙ্গজুড়ে। বংশীহারি, হরিরামপুর, বুনিয়াদপুর, তপন, নালাগোলা, বৈরডাঙ্গি, পাকুয়া, চাকনগর সহ আশেপাশের ৫০টি গ্রামের অগণিত ভক্তের ঢল নামে বাগদুয়ারে। ছয়দিন ধরে চলে এই উৎসব। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই শামিল হন। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় অগণিত আদিবাসী পুরুষ-মহিলাও এখানে অংশগ্রহণ করেন। পুজো কমিটির সম্পাদক চন্দন মোহন্ত জানান, বালুরঘাটের বোল্লা কালীপুজোর আদলে এখানে রক্ষাকালী পুজো করা হয়। প্রচুর পাঠা বলি হয়। করোনা আবহে গত দু’বছর মেলা বসেনি। এবার সরকারি নিয়মে পুজো হচ্ছে।

অন্যদিকে, বুনিয়াদপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রেলস্টেশন চত্বরেও বোল্লা কালীপুজোর আদলে রক্ষাকালী পুজো করা হয়। শুক্রবার সারা রাত ধরে মায়ের পুজো হবে। শনি, রবি ও সোমবার চলবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। সোমবার প্রথা মেনে সন্ধ্যায় মন্দিরের পাশে পুকুরে হবে নিরঞ্জন পর্ব। বোল্লা কালী মন্দিরের আদলে অস্থায়ী মণ্ডপ বানাতে ব্যস্ত ডেকোরেটর সংস্থা। এবারে ১৪তম বর্ষে সাড়ে সাত হাত কালী ও সাড়ে আট হাত শিব বানাতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। ১৩ বছর আগে স্বর্গীয় নৃপেন্দ্রনাথ দাস ও দীপককুমার সাহার উদ্যোগে শুরু হয় রক্ষাকালী পুজো। বংশীহারি ও বুনিয়াদপুর পুরসভার ৭০জন সদস্যের সম্মিলিত চেষ্টায় এই পুজো হয়ে আসছে। পুজো দেখতে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তের ঢল নামে। প্রচুর পাঠা বলি হয়। পূজা কমিটির সম্পাদক প্রতাপচন্দ্র প্রামাণিক জানান, কোভিডবিধি মেনে এবার মেলা বসছে না। পুজোয় আগত ভক্তদের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বংশীহারি ব্লকের ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোরদিঘিতেও রাজ্য সড়কের ধারে রক্ষাকালী পুজো হবে। পুজো ঘিরে চলছে জোর প্রস্তুতি।

- Advertisement -