খুঁটিপুজোর মধ্যে দিয়ে শুরু কলিগ্রামের কালীপুজোর

539

চাঁচল: মালদা জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক এবং বর্ধিষ্ণু গ্রাম হল চাঁচল-১ ব্লকের কলিগ্রাম। প্রায় কয়েকশ বছরের পুরোনো এই গ্রামের ইতিহাস। আর কলিগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে কালীপুজো। এলাকার লোকেদের কথায় যেমন কলকাতার দুর্গাপুজো, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো তেমনই কলিগ্রামের কালীপুজো।

দুর্গাপুজোর পর যেখানে বাঙালির মন বিষাদে ভোরে ওঠে সেখানে কলিগ্রামের মানুষেরা আরও দ্বিগুন আনন্দে মেতে ওঠে কালীপুজোর প্রতীক্ষায়। ঐতিহ্যবাহী থানের পুজোগুলির সাথে জাকজমকপূর্ণ ক্লাবের পুজো সব মিলে কলিগ্রামের কালীপুজো নিয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে সমগ্র এলাকাবাসী। কলিগ্রাম সহ এই এলাকার সবথেকে বড় কালীপুজো হল কলিগ্রাম ঝংকার ক্লাবের কালীপুজো। সোমবার খুঁটিপুজোর মধ্যে দিয়ে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।

- Advertisement -

প্রত্যেক বছরই ঝংকার ক্লাবের কালীপুজো চিত্তাকর্ষক থিমের মাধ্যমে তাক লাগিয়ে দেয় এলাকার মানুষকে। এবছর তাদের ৪৪ তম বর্ষের থিম, “জলের দেশে মা আসছে।” এই থিমের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে মাছ এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের জীবনযাত্রা তুলে ধরা হবে। পুজো উদ্যোক্তারা মনে করছেন প্রতিবারের মত এবারের থিমও তাক লাগিয়ে দেবে মানুষের মধ্যে। এই থিমের শিল্পী এলাকার প্রখ্যাত শিল্পী গৌতম গাঙ্গুলি। কলিগ্রাম ঝংকার ক্লাবের সম্পাদক রামকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘সমস্ত নির্দেশিকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের পুজো হবে এবার।‘ এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রতিবছরের ন্যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে। থাকছে আলোকসজ্জা। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট কিছুটা কম এবার। প্রায় ৭ লক্ষ টাকা এবারের বাজেট বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেবজ্যোতি মন্ডল বলেন, ‘৪৪ বছর আগে আমাদের কয়েকজনের হাতে তৈরী এই ক্লাব আজ এলাকার সব থেকে বড় ক্লাব।এই ক্লাব শুধু ক্লাব নয় আমাদের পরিবার।‘ কলিগ্রাম ঝংকার ক্লাবে অন্যতম সদস্য সুবীর দাস বলেন, দক্ষিনেশ্বরী কালির আদলে মূর্তি তৈরী হয়। প্রথা মেনে চন্ডির থানে পুজো দিয়ে শুরু হয় মায়ের পুজো। এই ক্লাব শুধু এলাকার সেরা কালীপুজো করে তাই নয় সারাবছর এলাকার মানুষদের পাশে থাকে। করোনা আবহে লকডাউনের সময়ও প্রায় দুই মাস ধরে এলাকার গরিব মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছিল কলিগ্রাম ঝংকার ক্লাব। আমাদের প্রবেশ পথে অটোমেটিক স্যানিটাইজার মেশিন থাকবে। থার্মাল চেকিং হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ মাস্কও থাকবে।‘