কালুয়া নদীর ভাঙনে তলিয়ে গেল আস্ত একটি শ্মশান

557

গয়েরকাটা: লাগাতার ভারী বৃষ্টি চলছে ডুয়ার্সজুড়ে। বুধবার ভুটানের ছাড়া জলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে ধূপগুড়ি ব্লকের কালুয়া নদী। জল নামতেই নদীর দুই তীর জলপাইগুড়ি জেলার সাকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত ও আলিপুরদুয়ার জেলার ধনীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নদীর পাড়ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কালুয়া নদীর ভাঙনে নদীতে তলিয়ে গিয়েছে সাকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি শ্মশান। বর্তমানে ভেঙে যাওয়া অবস্থায় নদীতেই পড়ে রয়েছে ওই শ্মশানে নির্মিত একটি বিশ্রামাগার। কালুয়ারপাড় শ্মশান নামে পরিচিত ওই শ্মশানটি ২০০৮ সালে তৎকালীন আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মনোহর তিরকের আমলে নির্মাণ করা হয়েছিল। শ্মশান না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সমস্যায় পড়েছেন এলাকাবাসীরা।

যেভাবে ওই এলাকায় নদী ভাঙন বাড়ছে তাতে শ্মশানের পাশেই থাকা কালুয়ারপাড়া মেছুয়া মহম্মদ বিএফপি স্কুল নামে একটি প্রাথমিক স্কুলও নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত কালুয়া নদীর পাড়ে শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কালুয়া নদীর পাশাপাশি আংরাভাসা নদীর পাড়ভাঙনে গয়েরকাটা চা বাগানের বিঘা লাইনের একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কাশিয়াঝোরা এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

- Advertisement -

স্থানীয়রা বলেন, ‘সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের একটা বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই কালুয়ারপাড়া শ্মশানের ওপর নির্ভর করেন। গতকালের নদী ভাঙনে পুরো শ্মশানটাই নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। পাশেই রয়েছে একটি স্কুল। অবিলম্বে বাঁধের ব্যবস্থা না করা হলে স্কুলের অনেকটা জায়গা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। আমরা চাই এখানে দ্রুত শক্তিশালী বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক।’

ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধক্ষ্য সীমা চৌধুরী বলেন, ‘আংরাভাসা ও কালুয়া নদীর ভাঙনে বিঘা লাইন, কাশিয়াঝোরা, কোঙ্গারনগর ও কালুয়ারপাঁড় শ্মশানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেচ দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছি। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের শিল্প ও পরিকাঠামো সঞ্চালক গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘নদীগর্ভে শ্মশান তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমরা ওখানে নতুন ভাবে শ্মশান তৈরির ব্যাপারে ভাবছি। বিঘা লাইন এলাকায় আর্থ মুভার মেশিন বসিয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হচ্ছে।’

সেচ দপ্তরের বানারহাট সাব ডিভিশনাল অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবারের বৃষ্টিতে যে এলাকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।