বাবা কারাগারে, ছেলে ইউরোয় নায়ক

লন্ডন : স্কুলে থাকার সময় পেট ভরানোর জন্য ফ্রি মিলের উপর নির্ভর করতেন। এখন নিজের এলাকায় ফ্রি মিল যোগান দেন কেলভিন ফিলিপস।

ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর খবরের শিরোনামে লিডস ইউনাইটেডের ঘরের ছেলে কেলভিন। নিজের প্রথম বড় মঞ্চে ম্যাচ খেলেই সেরার শিরোপা পেয়েছেন। অথচ বড় হওয়ার পথে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। বছর পঁচিশের কেলভিনের বাবা মার্ক জামাইকান, মা লিন্ডসে আইরিশ। অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকায় বাবা প্রায়ই কারগারে থাকতেন। মা এবং ঠাকুমা ভ্যালই কেলভিন ও তাঁর বোনকে বড় করেছেন। ঘরে জায়গা না থাকায় তাঁর মা সোফায় ঘুমোতেন বলেও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

কেলভিন অবশ্য আদ্যোপান্ত ফ্যামিলি ম্যান। ২০১০ সাল থেকে লিডসে খেলছেন তিনি। মা ও ঠাকুমার সঙ্গে থাকার জন্য কোনওদিন শহর ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চাননি। গত অগাস্টে প্রথমবার জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার খবর আগে ঠাকুমাকেই জানান। তাঁর ক্লাবকে নিয়ে করা এক তথ্যচিত্রের সৌজন্যে সমর্থকদের মধ্যেও বেশ প্রিয় ছিলেন ভ্যাল। চলতি বছরের শুরুর দিতে তাঁর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি ছোটবেলার প্রেমিকা অ্যাশলে বেহানের সঙ্গেও প্রায় ১১ বছরের সম্পর্ক তাঁর।

তবে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের সাফল্যের পর ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাঁর বাবা উপস্থিত ছিলেন না। কারণ লিডস ইউনাউটেডের ট্রেনিং গ্রাউন্ডের ৩৫০ গজ দূরের এক কারাগারে বন্দী রয়েছেন মার্ক। বাবার প্রসঙ্গে কেলভিনের বক্তব্য, ক্লাসের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় বাবা ছোটবেলা থেকেই হেনস্তার শিকার। এর প্রভাবেই তিনি ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তবে আমি বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাই না, ফোনেই যোগাযোগ রাখি। মরশুমের শুরুতে প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসি। সেখবর জানাতে বাবাকে ফোন করি। সেসময় অন্য বন্দীরা লিডসকে সমর্থন করে গান গাইছিলেন।

জামাইকান বংশোদ্ভূত হলেও তাঁর গায়ে রং তেমন কালো নয় বলে খুব একটা হেনস্তার শিকার হতে হয়নি। তবে তাঁর পরিচিত অনেকেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার। সেই স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার ইউরো জেতার দিকে মন দিতে চাইছেন কেলভিন।