বিয়ে করতে করোনামুক্ত সার্টিফিকেট চাইল মন্দির কর্তৃপক্ষ

292

রাজা বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনার আতঙ্কের আবহে এবার আসানসোলের কল্যানেশ্বরী মন্দিরে বিয়ে করতে হলে বর ও কনেকে “করোনামুক্ত” মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে।

পাশাপাশি মন্দিরে বর ও কনের দুই পরিবার মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৫ জন বিয়ের জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা আছে সেখানে আসতে পারবেন। তাঁদেরকে অবশ্যই মুখে মাস্ক পড়ে ও হাত স্যানিটাইজ করে আসতে হবে। বিয়ের জন্য ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়াও বর ও কনের ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডের প্রতিলিপি ও জন্মের শংসাপত্র সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

কল্যানেশ্বরী মন্দিরে সারা বছর শুধু আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলই নয়, ঝাড়খন্ড সহ আশপাশের এলাকার প্রচুর মানুষ তাঁদের ছেলেমেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করে থাকেন। তারজন্য মন্দিরে আলাদা করে বিয়ে দেওয়ার ঘর সহ সমস্ত ব্যবস্থা আছে। সেইজন্যই এই সময় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

১৫ জুন থেকে কল্যানেশ্বরী মন্দির পুরোপুরি খুলে যাচ্ছে। তার আগে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে প্রধান সেবাইত দিলীপ দেওঘরিয়া বলেন, বর্তমান সময়ে করোনার প্রকোপ ক্রমশই বাড়ছে৷ বর ও কনে বিয়ের জন্য মন্দিরে আসবেন। তাঁদেরকে অনেকটা সময় ধরে পুরোহিতকে বিয়ে করাতে হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁদেরকে চিকিৎসকের কাছ থেকে করোনামুক্ত সার্টিফিকেট আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিককালের কিছু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ম্যারেজ রেজিস্ট্রি করার যে সার্টিফিকেট হয়, তা এবার সঙ্গে আনা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়াও বিয়েতে যারা আসবেন, তাঁদের প্রত্যেককে মুখে মাস্ক পড়তে হবে। তাঁদেরকে হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। একইভাবে যারা মন্দিরে পুজো দিতে আসবেন তাদেরকেও মাস্ক মুখে পড়তে হবে ও হাত স্যানিটাইজ করতে হবে। এইসব নিয়ম মন্দির চত্বরে ১৫ জুনের মধ্যে ছোট ছোট বোর্ডে লিখে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

 

অন্যদিকে আসানসোলের ঘাঘরবুড়ি মন্দিরের অন্যতম সেবাইত সুদীপ্ত চক্রবর্তী বলেন, বিয়ের জন্য যারা মন্দিরে আসছেন তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করে, হাত স্যানিটাইজ মুখে মাস্ক লাগিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। যাদের বিয়ে হয় তাঁদের জন্মের শংসাপত্র, ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডের প্রতিলিপি আমরা নিয়ে থাকি। সকাল আটটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকছে।

তিনি আরও বলেন, আলাদা করে অবশ্য করোনা মুক্ত সার্টিফিকেট আমরা নিচ্ছি না। কিন্তু যদি দেখা যায় বিয়ে করতে আসা বর ও কনের মধ্যে কারোর থার্মাল স্ক্রিনিংয়ে শরীরের তাপমাত্রা বেশি, তাহলে আমরা তাঁদের ১৫ মিনিট বসিয়ে রাখব। যদি তারপরেও তাপমাত্রা না কমে, তাহলে আমরা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে বিষয়টা জানিয়ে দেব। দুদিন আগেই এভাবেই মন্দিরে একটা বিয়েও হয়েছে।

তিনি জানান, বিয়ের জন্য আলাদা করে রেজিস্টার আছেন। যারা মন্দিরে পুজো দিতে আসছেন তাঁদের কাছে অনুরোধ সবাই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের করোনা সংক্রান্ত যেসব নির্দেশ মন্দিরগুলির জন্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো মেনে চলুন। মুখে মাস্ক পড়ুন। হাত স্যানিটাইজ করার পাশাপাশি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। এতে সকলের মঙ্গল হবে৷