হারিয়ে যেতে বসেছে কাম্তেশ্বর রাজার গড়

467

মনোজ বর্মন, শীতলকুচি : রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহাসিক নিদর্শন খেন রাজাদের তৈরি কাম্তেশ্বর রাজার গড়। মাথাভাঙ্গার শীতলকুচিতে রয়েছে ওই গড়। প্রতিবছর এই গড়ের মাটি ধসে গিয়ে উচ্চতা কমে যাচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে আশঙ্কা একদিন এই নিদর্শন হারিয়ে যাবে। তাই কাম্তেশ্বর রাজার গড়ে গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি উঠছে। কথিত আছে উত্তর-পূর্ব ভারতের খেন রাজাদের কাম্তেশ্বর উপাধি ছিল। তাঁদের রাজ্যকে শত্রুদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে রাজ্যের চারদিকে প্রায় ৪০ মিটার উঁচু সীমানা প্রাচীর করেছিলেন রাজারা। যা কাম্তেশ্বর গড় নামে পরিচিত।

এই গড়ের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং ধসের হাত থেকে বাঁচাতে গড়ের উপর বন দপ্তরের তরফে প্রায ২০ বছর আগে গাছ লাগানো হয়েছিল। পরে ওই গাছগুলি পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় শীতলকুচি ব্লকের গোঁসাইরহাট, ছোটশালবাড়ি ও লালবাজার গ্রাম পঞ্চায়েতকে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক গাছ মরে গিয়েছে। আবার কিছু গাছ চুরিও গিয়েছে। বর্তমানে গড়ের অনেক অংশেই গাছ নেই। এজন্য প্রতিবছর বৃষ্টিতে ধসে যাচ্ছে গড়ের একাংশ। কমে যাচ্ছে গড়ের উচ্চতা। তাই স্থানীযরা কাম্তেশ্বর রাজার গড়ে গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা সুজিতচন্দ্র  বর্মন বলেন, বয়স্কদের কাছে শুনেছি গড়ের উচ্চতা ৪০ মিটারের বেশি ছিল। বর্তমানে এর উচ্চতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। দ্রুত গড়ের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে প্রশাসনকে নজর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পরিবেশপ্রেমী তথা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করলে গড় একদিন ধসে গিযে সমতলভূমিতে পরিণত হবে। ভবিষ্যত্ প্রজন্ম আর এই গড়কে দেখতে পাবে না। ঐতিহাসিক  নিদর্শন হারিয়ে যাবে। তাই কাম্তেশ্বর রাজার গড়ে প্রচুর গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।

এই বিষয়ে ছোটশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনোযারা বিবি বলেন, কীভাবে গড়ে গাছ লাগানো যায বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বন দপ্তরের শীতলকুচির রেঞ্জ অফিসার অমল রায় বলেন, গড়ের জমি বন দপ্তরের মধ্যে পড়ে না। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের গাছ লাগাতে বললে তবেই আমরা গাছ লাগাতে পারি। শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মালতী পাল বলেন, গড়ে গাছ লাগানোর প্রয়োজন আছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির সঙ্গে কথা বলা হবে। শীতলকুচির বিডিও ওয়াংদি গ্যালপো ভুটিযা বিষয়টি খতিযে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।