ধর্ম-সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার করম পুজোয় 

113

রাঙ্গালিবাজনা: ধর্মগ্রন্থ নয়, এ পুজোর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে প্রকৃতিপ্রেম আর রূপকথার গল্প। আজও এ পুজোর রাতে বর্তমান প্রজন্ম স্মার্টফোন সরিয়ে রেখে শোনে ভূত-পেত্নি, দত্যি-দানো, মামদো-জামদো, গেছোভূত-মেছোভূত, ব্রক্ষ্মদত্যির গল্প। এ পুজোয় ছুঁয়ে আসা যায় উত্তরের আদিবাসী সত্ত্বা এবং ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ধারাকে। করম পুজো! গাছের ডালকে দেবতারূপে সাজিয়ে পুজো করেন উত্তরের সারনা ধর্মাবলম্বী। পুজোর বাকি আর সপ্তাহখানেক। বৃহস্পতিবার থেকে ডুয়ার্স জুড়ে শুরু হয়েছে করম পুজোর প্রস্তুতি পর্ব। বিশেষ করে চা বলয়ে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে। রাজী পারহা সারনা প্রার্থনা সভা ভারত, ডুয়ার্স তরাই সারনা যুব সমিতির মতো সংগঠনগুলি জানিয়েছে, সারনা ধর্মাবলম্বীরা প্রকৃতির পুজারি। করম পুজোয় প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে করম গাছের ডালকে কাপড় পরিয়ে দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয়।

পুজোর প্রস্তুতি পর্বে এদিন নদী থেকে নিয়ে আসা হয় বালি। বালিতে মেশানো হয় ৭ কিংবা ৯ প্রকার শষ্যদানা। বালিতে মেশানো শষ্যদানাগুলিকে ঝুড়িতে রেখে ঘরের এককোণে অন্ধকারে রেখে দেওয়া হয়েছে। এগুলিকে বলা হয় জাওয়া ফলের ঝুড়ি। তাতে প্রতিদিন জল ছিটিয়ে দেবেন তরুণীরা। পুজোর দিন শষ্যদানার অঙ্কুরগুলিকে করম দেবতার পায়ে নৈবেদ্য হিসেবে অর্পন করা হবে। মূলত, করম পুজোয় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ধর্ম, সংস্কৃতি আর প্রকৃতিপ্রেমের পরম্পরা। ডিজিটাল যুগেও করম পুজোর রাতে ‘দাদি’র মুখে রূপকথার গল্প শোনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উঠতি প্রজন্ম। ওরা শোনে একসময় ভয়াবহ আগুনে পৃথিবী পুড়ে  ছারখার হয়ে যাওয়ার গল্প। রূপকথা অনুসারে, সেবার পৃথিবী পুড়ে গেলেও নিজের কোটরে একজোড়া যুবক যুবতীকে লুকিয়ে রেখে সৃষ্টি রক্ষা করেছিল করম গাছ।

- Advertisement -