হাসপাতালের জন্য সাহায্যের নামে ফাঁকা খাম করিমুলকে

616

কৌশিক দাস, ক্রান্তি, ১৭ মে : সমাজসেবার পাশাপাশি তাঁর স্বপ্ন সবার জন্য একটি হাসপাতাল। তিনি সেই কাজে নেমেও পড়েছেন। কিন্তু তারপরই বুঝতে পারছেন আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হওয়া কাজটি আখেরে কতটা কঠিন। পদ্মশ্রী করিমুল হকের হাসপাতাল তৈরিতে অনেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিযে শেষপর্যন্ত কথা রাখেননি। বিভিন্ন সংবর্ধনা সভায় করিমুলকে সম্মানিত করার সময তাঁর হাতে বিলকুল ফাঁকা খাম তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রচণ্ড অপমানিত হয়েছেন। কিন্তু সবার স্বার্থেই হাসপাতাল স্বপ্নে মশগুল।

করিমুল হক মাল ব্লকের প্রত্যন্ত এলাকা রাজাডাঙ্গার ধলাবাড়ির বাসিন্দা। এলাকায় চিকিত্সা পরিসেবার হাল মোটেও ভালো নয়। বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিত্সার জন্য মালবাজার অথবা জলপাইগুড়ি যেতে হয়। কিন্তু সেখানে যাতায়াতে যেটুকু খরচ হয় তা বহনের ক্ষমতাও এলাকার অনেকেরই নেই। এর জেরে সময়মতো চিকিত্সা পরিসেবা না পেয়ে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পেরে করিমুল নিজের মাকে চোখের সামনে মৃত্যুমুখে ঢলে পড়তে দেখেছেন। এই সূত্রেই করিমুলের অতিমানব হয়ে ওঠা। নিজের মোটর সাইকেলকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে কত অসুস্থ মানুষকে যে রাতবিরেতে চেল নদী পার করে মালবাজার বা জলপাইগুড়ির হাসপাতালে পেঁছে দিয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। করিমুল আজও এই কাজ করে চলেছেন। তাঁর এহেন স্বীকৃতি স্বরূপ কেন্দ্রীয় সরকার করিমুল হককে পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত করে। কাজের মানুষের তো আর কাজ শেষ হতে চায় না। এই সূত্রেই সবার জন্য হাসপাতাল তৈরিতে করিমুল স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। এই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে তিনি নিজের জমিতেই হাসপাতাল গড়ার কাজ শুরু করেন। হাসপাতালটি তৈরিতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। স্বপ্ন সফল করতে করিমুল নিজের সঞ্চয উজাড় করেন। বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। হাসপাতালের ছাদ তৈরিতে সাংসদ তহবিল থেকে বিজয়চন্দ্র বর্মন তিন লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু এখনও প্রচুর টাকার প্রযোজন।  অর্থাভাবে হাসপাতাল তৈরির কাজ থমকে গিয়েছে। এ পর্যন্ত তাও ঠিক ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সংবর্ধনা সভায় নিয়ে গিয়ে সাহায্যের নামে তাঁর হাতে ফাঁকা খাম ধরিযে দেওয়ার ঘটনা করিমুল কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না। ক্ষোভ উগরে অপমানিত করিমুল বলছেন,  ভরা সভায় সংবর্ধনা ও আর্থিক সাহায্যের নামে ফাঁকা খাম ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। করিমুল হকের হাসপাতাল নির্মাণে আর্থিক সাহায্য শিরোনামে পরদিন সেই খবর বড়ো করে ছাপা হচ্ছে। এভাবে অপমান কোনোমতেই মেনে নিতে পারছি না। করিমুল জানান, হাসপাতাল তৈরিতে অনেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই করেনি। তবুও তাঁর হাসপাতাল তৈরির স্বপ্ন একদিন সফল হবেই বলে স্বপ্ন দেখছেন করিমুল।