নিজের উদ্যোগে গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন করিমুল

256

কৌশিক দাস, ক্রান্তি: দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি করে সমাজ থেকে অশিক্ষা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছেন পদ্মশ্রী প্রাপক করিমুল হক। ইতিমধ্যে তার উদ্যোগে মাল ব্লকের ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৮টি কেন্দ্রে ২ থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ২০০ পড়ুয়া প্রাক প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা পাচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলিতে পড়াচ্ছেন গ্রামের শিক্ষিত মহিলারা। স্কুলগুলি চালাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। করিমুল সাহেবের বিশ্বাস, এই উদ্যোগে গ্রামে একদিকে যেমন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে, তেমনি কেন্দ্রগুলিতে পড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী হবেন গ্রামের শিক্ষিত মহিলারা।
নিজের উদ্যোগে গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছেন করিমুল| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaপদ্মশ্রী প্রাপক করিমুল হক নিজের গ্রাম ধলাবাড়ি এবং রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৪টি, ক্রান্তি গ্রাম পঞ্চায়েতের বৈরাগীপাড়া এবং ভান্ডারীপাড়ায় একটি করে, চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহেববাড়িতে একটি এবং কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাওয়াফেলিতে একটি কেন্দ্র তৈরি করেছেন। নিজে প্রান্তিক এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় খুব ভালোভাবেই স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করিমুল সাহেব। পাশাপাশি নিজের এলাকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তনে নিজের বাড়িতেই ‘মানব সেবা সদন’ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন। অশিক্ষার অন্ধকারে শিশু ও কিশোরদের নষ্ট হয়ে যাওয়ার চিত্রটি বদলাতে দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়াদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি।
এক পড়ুয়ার অভিভাবক মঞ্জু হক বলেন, ‘সামান্য দিনমজুরের কাজ করে বেসরকারি স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। এখন দু-তিন বছর বয়সেই আর্থিকভাবে উন্নত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করে দিচ্ছেন। কিন্তু ছ’বছর বয়সে আমাদের মতো পরিবারের ছেলেমেয়েরা যখন স্কুলে ভর্তি হয় তখন অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে’।
অপর অভিভাবক জিতেন রায়, সরেশ রায় বলেন, সন্তানদের প্রাক প্রাথমিকের পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমরা সেভাবে নজর দিতে পারি না। কিন্তু এই ধরনের স্কুলে পড়ার ফলে সেই অভাবটা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। এখানে শিশুদের হাতেকলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
করিমুল হক বলেন, ‘আমি বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারিনি। শিক্ষাই মানুষের বেঁচে থাকার মেরুদন্ড এটা আমি উপলব্ধি করেছি। একমাত্র শিক্ষাই প্রকৃত মানুষ গড়তে পারে। আমার গ্রাম সহ আশেপাশের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করেন। দু’বেলা ঠিকমতো খাবার না জোটা মানুষের কাছে সন্তানদের পড়াশোনা শেখানো বিলাসিতার নামান্তর। ফলে বহু শিশু আজও শিক্ষার আলো থেকে অনেক দূরে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের সহযোগিতায় ওই ৮টি কেন্দ্র চলছে। শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে সমাজ এবং অবহেলিত এলাকার উন্নতিসাধনই আমার উদ্দেশ্য।‘