টেলিভিশনে বিগ বির মুখোমুখি হট সিটে করিমুল

172

কৌশিক দাস ও শুভজিৎ দত্ত, ক্রান্তি ও নাগরাকাটা : অনেক আগেই করিমুল হকের জীবনকাহিনী রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেছে। ইতিমধ্যে বলিউডে তাঁর জীবনী নিয়ে তৈরি হচ্ছে বায়োপিক। এবার জনপ্রিয় টেলিভিশন শো কৌন বনেগা ক্রোড়পতি-র করমবীর স্পেশাল এপিসোডে দেখা যাবে বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদাকে। যে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন। নতুন বছরের প্রথম দিন টেলিভিশনের পর্দায় বিগ বির সঙ্গে দেখা যাবে করিমুল সাহেবকে। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে থাকছেন রুপোলি পর্দার তারকা সোনু সুদ। তাঁর নিজের তৈরি হাসপাতাল করিমুল হক মানব সেবাসদনের ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হতে চলেছেন সোনু সুদ।

পদ্মশ্রী পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি বাংলা ও হিন্দিতে একাধিক রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে কৌন বনেগা ক্রোড়পতির মতো এত সুপারহিট প্রোগ্রামে এবং ভারতীয় সিনেমার শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনের উলটোদিকে হট সিটে এই প্রথম বসছেন করিমুল সাহেব। পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর গত দুবছরে তাঁর কাজের পরিধি আরও বেড়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে না হলেও চালু করেছেন তাঁর স্বপ্নের হাসপাতাল। মেয়েদের আত্মনির্ভর করতে তাইকোন্ডো প্রশিক্ষণ প্রদান, দুঃস্থ শিশুদের জন্য স্কুল চালুর মতো একাধিক কর্মসূচি তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর এসব নানা কর্মকাণ্ড ও লড়াইয়ের খণ্ডিত কোলাজ উঠে আসবে কৌন বনেগা ক্রোড়পতির স্পেশাল এপিসোডে। সুপারহিট প্রোগ্রামেও করিমুল সাহেব আবেদন করবেন যে, দেশের অর্থবান লোকেরা যেন মানবসেবার কাজে এগিয়ে আসেন। বিগ বি-কে বলবেন, আপকো বহুত দিয়া হামনে। আব ম্যায় লেনে আয়া হুঁ। ওই রিয়েলিটি শো থেকে পাওয়া সমস্ত অর্থ মানুষের জন্যই খরচ করবেন বলে জানিয়েছেন করিমুল সাহেব।

- Advertisement -

এদিকে, করিমুল হকের ক্রান্তি এলাকার রাজাডাঙ্গার ধলাবাড়িতে নিজের তৈরি হাসপাতালে দ্রুত চালু হতে চলেছে মানসিক রোগের চিকিৎসা। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে পাকা কথা হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত আধিকারিকদের। জলপাইগুড়ির জেলা মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি (ডিএমএইচপি)-র কর্তারা সম্প্রতি করিমুল সাহেবের সঙ্গে ধলাবাড়িতে এসে কথা বলে গিয়েছেন। ডিএমএইচপি-র প্রোগ্রাম অফিসার ডাঃ অর্ঘ্য মুখোপাধ্যায় বলেন, মাসে একদিন করে করিমুল হক মানব সেবাসদনে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করা হবে। দেওয়া হবে বিনামূল্যে ওষুধপত্রও। জানুয়ারি থেকে সম্ভব না হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে ওই কাজ শুরু হয়ে যাবে। করিমুল হক বলেন, এই হাসপাতাল মানুষের। তাঁদের সাহায্যেই এটা গড়ে উঠছে। ডে কেয়ার হাসপাতাল হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা শুরু করেছি। ডাক্তারবাবুদের সাহায্য পেয়ে আমি কৃতার্থ। মানসিক রোগের চিকিৎসার কর্মসূচিটি সরকারি। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এটা  চলছে। ইতিমধ্যেই ডুয়ার্সের ১০টি  চালু চা বাগান সহ একাধিক বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানে মাসে একবার মানসিক রোগের নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান চলছে।