জল সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে রুপোলি পর্দায় করিমুল

237

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : তাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে বায়োপিক। তা শেষ হওয়ার আগেই লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরার মুখোমুখি হতে হল তাঁকে। জল সংরক্ষণের বার্তা দিতে বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন করিমুল হক।

এক ফোঁটা পানি নামে যে পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, সেখানেও তাঁর ভৃমিকা বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা। ছবিতে প্রচণ্ড গরমে পান করার জল না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক চা শ্রমিককে জলশূন্য ট্যাপকলের পাশ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যাবে করিমুল সাহেবকে। কলের মুখ খোলা রাখায় জলাধারের সব জল শেষ হয়ে যাবার কারণেই যে এমন পরিণতি, ছবিতে সেই ডায়ালগ দেবেন তিনি। ভারত ও বাংলাদেশের কলাকুশলীদের নিয়ে অভিনীত ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাচ্ছে নন্দনে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তার আগে ঘরোয়াভাবে প্রথম প্রিমিয়ার দেখানো হবে ১৮ অক্টোবর মাথাভাঙ্গায়। ছবির নির্দেশক রোপ আখতার আহমেদ বলেন, করিমুল সাহেব শুধু এদেশের নন, তিনি গোটা বিশ্বের। তামাম দুনিয়া এখন জলসংকটে ভুগছে। ছবিতে তাঁর ভূমিকা মিনিট পাঁচেকের হলেও যে বার্তা দিতে দেখা যাবে, তার গুরুত্ব সময় দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না।

জীবনে এই প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন করিমুল সাহেব। তিনি বলেন, সিনেমার বিষয়বস্তু শুনে অভিনয়ের প্রস্তাব আর ফেরাতে পারিনি। আমার মাধ্যমে যদি সামান্যতম হলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠে তবে নিজেকে ধন্য মনে করব। জানা গিয়েছে, করিমুল সাহেবের প্লটের শুটিং হয়েছে কালিম্পংয়ের গরুবাথানে। ছবিতে দেখা যাবে, গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে আড়াইশো চা শ্রমিকের একটি দল কাজ থেকে ফিরছিল। সেসময় এক শ্রমিকের জলপিপাসা পায়। রাস্তার ধারের একটি ট্যাপকল থেকে তিনি জল পান করতে গেলে এক ফোঁটা জলও সেখান থেকে বের হয়নি। এরপর জলের অভাবে সেখানেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন ওই শ্রমিক। এরপরই করিমুল হককে তাঁর বাইক অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দেখা যাবে। জলের অপচয় নিয়ে শ্রমিকদের সচেতন করবেন তিনি।

দুঘণ্টার এই ছবির শুটিং হয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও ভুটানে। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, মাথাভাঙ্গা, কালিম্পং ও ডুয়ার্সের নানা স্থানে শুটিং হয়েছে। তাতে উত্তরের বৈচিত্র‌্যপূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দেখানো হয়েছে পাহাড়ি নদী ও ঝোরাকে। অন্যদিকে, করিমুল হকের নিজের উদ্যোগে পরিচালিত তাঁর ধলাবাড়ি গ্রামের বাড়িতে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য নিখরচায় য়ে তাইকোন্ডো প্রশিক্ষণ শিবিরটি চলে, সেখান থেকে এবার ১৯ জন জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছে। তারা এবার রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বলে করিমুল সাহেব জানিয়েছেন।