কয়েক লক্ষের কর্মতীর্থ এখন গোয়াল

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য তৈরি কর্মতীর্থে এখন গোরু-ছাগল চরছে। গ্রামবাসীরা কর্মতীর্থের বাইরের শেডের নীচে গোয়াল বানিয়ে ফেলেছেন। গোরুর খাবার, জ্বালানির খড়ি, ঘুঁটে রাখা হচ্ছে সেখানে। রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি অঞ্চলের ঠুনঠুনি মোড়ে বেশ কয়েক বছর আগে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে এই ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল।

রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি মানসকুমার ঘোষ বলেন, কর্মতীর্থটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যে মহাসংঘের হাতে কর্মতীর্থটি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারা সেই দায়িত্ব পালন করছে না। পুজোর পর অফিস খুললে কর্মতীর্থটি চালুর বিষয়ে আমরা উদ্যোগী হব। কমলাবাড়ি পঞ্চায়েতের সদস্য মানিক বর্মন বলেন, এই মার্কেট চালু করার জন্য প্রধান থেকে বিডিও সকলকে জানিয়েছি। কিন্তু কারও কোনও উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। ঘটা করে ভবনটির উদ্বোধন হলেও আজও তা চালু হয়নি। বছরের পর বছর বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে কর্মতীর্থ ভবনের ভিতরে একাধিক স্টল। বাইরে রয়েছে সুন্দর শেড। অঞ্চলের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতের তৈরি সামগ্রী বেচাকেনার জন্য এই ভবনটি গড়ে উঠেছিল। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের দাবি, প্রায় দশ বছর ভবনটি পড়ে রয়েছে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁরা দায়িত্ব পালন করছেন না। তাই এখন তা গোয়ালে পরিণত হয়েছে।

- Advertisement -

কর্মতীর্থ ভবনটিতে গিয়ে দেখা গেল একটি স্টলও চালু হয়নি। ভবনের পাশের শেডের মধ্যে খড়, ঘুঁটে, খড়ি পড়ে রয়েছে। ঘুঁটে শুকোতে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। পাশেই ছাগল ও গোরুদের অবাধ বিচরণ। ভিতরের স্টলগুলি খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গেটের ভিতরে পড়ে রয়েছে কিছু আলুর বস্তা ও দাঁড়িপাল্লা। গ্রামবাসীদের দাবি, স্টলগুলি এভাবে ফেলে না রেখে বেকারদের মধ্যে বিলি করা হোক। তাঁরা কিছু করে খেতে পারবে। কারণ, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি সামগ্রীর বাজার এখানে কোনও দিনই চালু হবে না। গ্রামবাসী অমরেশ বর্মন জানান, বছরের পর বছর বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে কর্মতীর্থ ভবনটি। কেন চালু হচ্ছে না বুঝতে পারছি না। ভবনটি এভাবে ফেলে না রেখে স্থানীয় বেকারদের মধ্যে স্টলগুলি বিলি করে দিলে তাঁরা কিছু করে খেত। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে গ্রামের মানুষ ব্যবহার করছেন।

বিশ্বনাথ রায় নামে আরেক গ্রামবাসী বলেন, পঞ্চায়েতের কোনও উদ্যোগ নেই বলেই ভবনটি এভাবে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। তাছাড়া এমনভাবে স্টলগুলি তৈরি হয়েছে যে, ক্রেতারা কেউ সেখানে যাবেন না। কারণ, এখানে দরকার ছিল খোলা মার্কেট। স্টলগুলিতে না আছে দরজা, না আছে জানালা। তাই দিনের বেলাতেই লোক ঢুকবে না। কমলাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মানিক বর্মন বলেন, মহিলাদের এই মার্কেট চালু হলে স্থানীয়দের সুবিধা হত। মহিলা স্বর্ণজয়ন্তী দলের সদস্যরা ভবনটির দায়িত্বে আছেন। তাঁরা যদি ঠিকঠাক নজরদারি বা দেখভাল না করেন, আমার কী করার আছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে তো ঝগড়া করতে যাব না। তাঁদের নজরদারির অভাবেই গোয়ালঘর হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে ভবনটি।

যদিও স্বর্ণজয়ন্তী দলের সদস্য অপর্ণা দাস জানান, কর্মতীর্থের দায়িত্ব কিছুদিন আগেই পেয়েছি। স্টলগুলির জন্য লকডাউনের আগে অনেকেই আবেদন করেছেন। পুজোর ছুটির পর অফিস খুললে স্টলগুলি চালুর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আমাদের গোষ্ঠীর মিটিংগুলি ওখানেই হয়। মোট ৮টি স্টল আছে। বাইরে বাজারের জন্য শেড আছে। সেখানে যদি কেউ না বসে, আমরা কী করতে পারি!