তৈরির তিন বছর পরও কাজে আসছে না কর্মতীর্থ ভবন, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

290

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: তৈরির প্রায় তিন বছর পরও প্রশাসনের তৈরি কর্মতীর্থ ভবন কোনও কর্মেই আসছে না। এদিকে সন্ধ্যা হতে না হতেও কর্মতীর্থ ভবন চত্বর এলাকার অলিগলি এবং ভবনের অব্যবহৃত অংশের একাংশে অপকর্ম চলছে। এমনটাই অভিযোগ এনেছেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চ্যাংরাবান্ধা বাজার এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা।

তবে শুধু অভিযোগ করাই নয়, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৈরির পর কিছুদিন ফেলে রাখা হয়েছিল ভবনটিকে। এরপর বছর দুয়েক আগে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের উপস্থিতিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে সীমান্তের এই বাজারে কর্মতীর্থ ভবনটি চালু করা হয়। কিন্তু ভবনের কিছু কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। ব্যবসায়ীরা জানান, উদ্বোধনের সময় তড়িঘড়ি কয়েকটি স্টল দোকানদারদের মধ্যেও বিলি করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা যেখানে বসে দোকান করছেন তার ছাদের ওপরে সানসেটের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। যে কারণে বৃষ্টি হলে জল উপচে পড়ে। এতে খদ্দেরদের যেমন দোকানের সামনে দাঁড়ানো সম্ভব হয়না, তেমনি জল পড়ে দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, সন্ধ্যা হতে না হতেই কর্মতীর্থ ভবনের গলিতে মদ্যপদের উৎপাত বাড়ে। প্রকাশ্যেই মদ জুয়ার আড্ডাও বসছে। যে কারণে খদ্দেররা সহজে এদিকে আসতে চাইছেন না। এতে ওই এলাকায় থাকা ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

- Advertisement -

কয়েকজন দোকানদার জানান, কর্মতীর্থ ভবনের অধিকাংশ স্টল এখনও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। ভবনের আনাচে কানাচে মলমূত্র ত্যাগ করা হচ্ছে, যত্রতত্র মদের বোতল ও নোংরা আবর্জনার স্তূপ জমে থাকছে। এতে মাঝেমধ্যে দুর্গন্ধে এলাকায় টেকাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশা মাছির উপদ্রবও রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে দোকানদারদের মনে। সুকুমার কানু, গদাই তফাদার, মহম্মদ ইসমাইল সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রমূখ ব্যবসায়ী বলেন, ‘কর্মতীর্থ ভবনটির সত্যিই দারুণ খারাপ অবস্থা। নানা সমস্যার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এখানে দোকানদারি করতে হচ্ছে। যে কারণে খদ্দেরদের অনেকেই এইদিকে আসতে চাননা। এতে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এইসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ তাঁরা দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চ্যাংরাবান্ধা বাজার ব্যবসায়ী সমিতিও। সমিতির সম্পাদক মিতুল সাহা বলেন, ‘উদ্বোধনের দীর্ঘদিন পরও কর্মতীর্থ ভবনটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। এমনকি ভবন চত্বরের অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়ছে বলে তাঁদের কাছেও নিয়মিত অভিযোগ আসছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া দরকার।’ যদিও মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিডিও সাঙ্গে ইউডেন ভুটিয়া জানিয়েছেন, কর্মতীর্থ ভবনের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে বলে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই। তবে এটার একটা কমিটি রয়েছে। সম্প্রতি ওই কমিটিতে কর্মতীর্থ ভবনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিভাবে এটাকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় সেই বিষয়ে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। এইপ্রসঙ্গে মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়তি সরকার জানান, বিষয়টি তাঁদের তরফেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।