কোটি টাকার কর্মতীর্থ মুখ ঢেকেছে আগাছায়

বিপ্লব হালদার, তপন : গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষে কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কর্মতীর্থ। কিন্তু উদ্বোধনের দুবছর কেটে গেলেও তপন ব্লকের রামপুরে তৈরি সেই কর্মতীর্থ চালু হয়নি। ফলে কোটি টাকার কর্মতীর্থ এখন আগাছায় মুখ ঢেকেছে।

গ্রামের মানুষকে সামান্য বাজারের জন্য যাতে শহরমুখী না হতে হয় তার জন্য গ্রামীণ মানুষের কর্মসংস্থান বাড়াতে চার বছর আগে রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বস্ত্র দপ্তরের উদ্যোগে তপন ব্লকের রামপুরের সুহরি গ্রামে কর্মতীর্থ গড়ে তোলা হয়। রামপুরের ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে গড়ে ওঠা কর্মতীর্থটিতে রয়েছে ৩০টি স্টল। স্টলের পাশাপাশি এখানে মাছ ও আনাজ বিক্রি করার জন্য রয়েছে শেড। দুবছর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মতীর্থটির উদ্বোধন করা হয়। এতে স্থানীয়রা রুজিরোজগারের দিশা দেখেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধনের পর মাত্র দুদিন খোলা ছিল স্টলগুলি। তারপর সব বন্ধ। কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই কর্মতীর্থের চতুর্দিক এখন আগাছায় ঢেকেছে। পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে দোকনের আসবাবপত্র। অভিযোগ, সন্ধে নামলে এখানে মদের আসর বসছে। তাই কর্মতীর্থটি চালুর দাবি তুলেছেন এলাকার মানুষজন।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা কমল বর্মন বলন, প্রতি শনিবার রামপুরে বড় হাট বসে। সেই হাটেই আমরা সাপ্তাহিক বাজার করে থাকি। সুহরিতে কর্মতীর্থ চালু হওয়ায় আমরা একটু আশার আলো দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, এখান থেকেই প্রয়োজনীয় শাকসবজি কিংবা মাছ কিনতে পারব। দুবছর আগে এর উদ্বোধন হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুদিন দোকানপাট খুলেছিল। তারপর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। এই কর্মতীর্থটি চালু হলে আমাদের ভীষণ সুবিধে হবে। স্থানীয় গৃহবধূ পারুল রায় বলেন, সামান্য বাজারের জন্য আমাদের গঙ্গারামপুর বা বালুরঘাট যেতে হয়। এলাকাতে মার্কেট গড়ে ওঠায় ভেবেছিলাম এখন থেকেই সব জিনিসপত্র কিনতে পারব। কিন্তু কেনাবেচা তো দূরের কথা, উদ্বোধনের পর মার্কেটটি চালুই হয়নি। শুধু কর্মতীর্থের জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় কালী সরকার বলেন, গ্রামীণ মানুষের আয়ের কথা চিন্তা করে কর্মতীর্থটি গড়ে উঠেছিল। অনেকে দোকান নিয়েছিল। যে দুতিনদিন কর্মতীর্থটি চালু ছিল, তাতে ধান-পাটের ব্যবসা জমে উঠেছিল। তারপর কেন সেটা বন্ধ হয়ে গেল জানি না। মার্কেটটি যাতে ফের চালু হয় সেটা আমরা প্রসাশনের নজরে আনব। তপনের বিডিও মামুদ করিম শেখ বলেন, রামপুরের সুহরিতে ওই কর্মতীর্থে ৩০টি স্টল রয়েছে। এছাড়াও মাছ ও সবজি বিক্রির জন্য আলদা শেড আছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মতীর্থটি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সেখানে যাঁরা দোকানঘর পেয়েছেন শীঘ্রই তাঁদের ডেকে দোকান খোলার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।