ক্রেতা নেই, আগাছায় ঢাকছে সাতখাইয়ায় কর্মতীর্থ ভবন চত্বর

249

রহিদুল ইসলাম, চালসা : কয়েক কোটি টাকা খরচ করে হস্তশিল্পীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কর্মতীর্থ ভবন। বছর দেড়েক আগে সেটি চালু করা হয়। কিন্তু ওই কর্মতীর্থে কোনও শিল্পী যাচ্ছেন না। দিনের পর দিন পড়ে থাকায় আগাছায় ঢেকে গিয়েছে ভবন চত্বর। স্বাভাবিকভাবেই মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প।

মেটেলি ব্লকের শালবাড়ি মোড় সংলগ্ন সাতখাইয়ায় রয়েছে কর্মতীর্থ ভবনটি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্র দপ্তর থেকে ওই কর্মতীর্থ তৈরি করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, ব্লকের বিভিন্ন এলাকার হস্তশিল্পীরা ওই ভবনে বসে তাঁদের সামগ্রী তৈরি করবেন। সেখান থেকেই ওই সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। প্রায় দেড় বছর আগে ২৭ জন শিল্পীকে নিয়ে তৈরি করা হয় সমবায় সমিতি। কিন্তু ২৭ জন হস্তশিল্পী থাকলেও বর্তমানে মাত্র একটি প্রোজেক্ট চলছে এখানে। সেটি হল ধূপকাঠি তৈরির প্রকল্প। বাকি শিল্পীরা না আসায় ও তার জেরে ক্রেতারা না আসায় কর্মতীর্থ ভবনটি ক্রমশ ভূতুড়ে বাড়ি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আগাছায় ঢেকে যেতে বসেছে গোটা চত্বর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। সাতখাইয়া কর্মতীর্থের সম্পাদক বিরাজ চন্দ বলেন, ২৭ জন শিল্পী থাকলেও মাত্র একটি প্রোজেক্ট চলছে ওখানে। অর্থের ভাবে অনেকেই তাদের প্রকল্প রূপায়ণ করতে পারছেন না। ব্যাংকও ঋণ দিচ্ছে না। তাছাড়া কর্মতীর্থের জায়গাটিও অনেকটাই ভিতরে। পর্যটক ও সাধারণ ক্রেতারা ওখানে যাচ্ছেন না। হাতে অনেক প্রোজেক্ট থাকলেও মূল সমস্যা মূলধনের। সরকারিভাবে যদি শিল্পীদের আর্থিক সাহায্য করা হয় ও শিল্পীদের তৈরি সামগ্রীর বাজারের ব্যবস্থা সহ কর্মতীর্থে য়দি পর্যটকদের নিয়মিত নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে হয়তো সেটা স্বাভাবিকভাবে চলবে।

- Advertisement -

হস্তশিল্পী পাপিয়া মণ্ডল বলেন, রোজ রোজ ওই কর্মতীর্থে বসে থেকে কোনও লাভ হচ্ছে না। ক্রেতারা য়াচ্ছেন না। তাছাড়া টাকার অভাব রয়েছে। যাবতীয় সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। মাটিয়ালি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিক্রম রুন্ডা বলেন, শিল্পীদের কী সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে। কর্মতীর্থটি সচল করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।